Advertisement
E-Paper

বিধানসভা ভোটের পর শনিবার থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু অভিষেকের, দেখতে যাচ্ছেন দলের ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের

বিধানসভা ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল দৃশ্যতই ছত্রভঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক কেন রাস্তায় নামছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দলের অনেক নেতাই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ০৮:৩৮
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

ফের রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটের পর এই প্রথম। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় ‘আক্রান্ত’ দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তিনি। শনিবার থেকে তাঁর এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। শনিবার অভিষেক যাবেন সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকায়। সোনারপুর দক্ষিণে ‘আক্রান্ত’ তৃণমূলকর্মী সঞ্জু কর্মকার এবং বেলেঘাটায় আর এক ‘আক্রান্ত’ কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর খুব বেশি প্রকাশ্যে দেখা যায়নি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন অফিসে হওয়া বৈঠকগুলিতে অবশ্য যোগ দিচ্ছিলেন তিনি। সমাজমাধ্যমেও ছিলেন সক্রিয়। নিট-এর প্রশ্ন ফাঁস কিংবা সিবিএসই-র পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। তবে ফলতায় পুনর্নির্বাচনে প্রচারে যাননি। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানও লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। বিপুল ভোটে বিজেপির জয়ের পর প্রশ্ন ওঠে অভিযেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে। অভিষেক কিন্তু মুখ খোলেননি।

বিধানসভা ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল দৃশ্যতই ছত্রভঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক কেন রাস্তায় নামছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দলের অনেক নেতা। যাঁরা প্রকাশ্যেই অভিষেকের পথে না-নামা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ঘটনাচক্রে, শনিবার ভোট-পরবর্তী প্রথম কর্মসূচিতেই বেলেঘাটায় যাচ্ছেন অভিষেক।

দলের হারের জন্য তৃণমূলের অনেক নেতা এবং জনপ্রতিনিধি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে দায়ী করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শান্তনু সেন— ‘বেসুরোদের’ তালিকা প্রতি দিনই দীর্ঘতর হচ্ছে। এই তালিকায় এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে ‘অভিষেক-ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত ছিলেন। এই ‘বেসুরোদের’ উদ্দেশে অভিষেক কোনও বার্তা দেন কি না, সেই দিকে নজর রয়েছে। তা ছাড়া ফলতার পুনর্নির্বাচনে তৃণমূলের চতুর্থ স্থানে নেমে আসা অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কেবল বিরোধী দলগুলি নয়, দলের মধ্যে থেকেও অনেকে প্রকাশ্যেই এই মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর আগে অভিষেক জ়েড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু রাজ্যের নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি মেনে যাঁর যেটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেটুকুই দেওয়া হবে। একজন সাংসদ হিসাবে যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, অভিষেক তা-ই পাবেন। নিরাপত্তায় কোপ পড়ার পর শনিবারই প্রথম কালীঘাট এলাকার বাইরে পা রাখছেন অভিষেক। ভোটের পর প্রথম কর্মসূচি থেকে তিনি কী বার্তা দেন, এখন সে দিকেই নজর থাকবে।

অভিষেকের এই সফর প্রসঙ্গে মুখ খুলেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র প্রণয় রায় বলেন, “আমরা সরকারে আসার পর কোনও হিংসায় মদত দিইনি। ২০২১-এর ভোটের পর যা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হয়নি। তার পরেও সাধারণ মানুষ তৃণমূলের নেতাদের মারধর করেছেন। আমরা দেখেছি অভিষেকের বাড়ির সামনেও মানুষ ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অভিষেকের এই সফরের জন্য কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় ওঁকেই নিতে হবে।”

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy