সপ্তাহখানেক আগেও ৮-১০ কুইন্ট্যাল করে ইলিশ নিয়ে পাড়ে ভিড়ছিল ট্রলার। হঠাৎই আরও বেশি ইলিশ উঠতে শুরু করেছে জালে। পরিমাণ পৌঁছেছে ট্রলার-পিছু দেড়-দুই মেট্রিক টনে। বহু মাছ পচে যাচ্ছে। কাকদ্বীপ মৎস্যবন্দরে এসে জাল থেকে পচা মাছ ছাড়াতে রীতিমতো শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে অনেক ট্রলার মালিককে।
‘এফবি দশভূজা’ ট্রলারের মাঝি উলানাথ দাস বলেন, ‘‘মাছ প্রচুর ধরেছি। কিন্তু বেছে ফেলতে হচ্ছে অনেক পচা ইলিশ।’’
ইলিশ বিশেষজ্ঞ সপ্তর্ষি বিশ্বাসের মতে, জালে বেশি ইলিশ ধরা পড়লে এমন পরিস্থিতি হতে পারে। জালে ধরা পড়া যে সব মাছ নীচের দিকে থাকে, তারা চাপে দ্রুত মারা যায়। সেই সব মাছ সংরক্ষণ করাও মুশকিল।
পর্যাপ্ত বরফের ব্যবস্থা করলে কি বাঁচানো যেত বাড়তি ইলিশ?
মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, বরফের জোগান নিয়ে সমস্যা নেই। বরফ কলের মালিকদের সংগঠন সূত্রেও জানা গিয়েছে, তাদের কাছে বাড়তি বরফের জন্য কোনও ট্রলার মালিক আসেননি। সংগঠনের নেতা অশোক দেবনাথের কথায়, ‘‘বরফের জন্য মাছ পচে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতি কাকদ্বীপে এখনও তৈরি হয়নি।’’
বর্ষায় প্রচুর মিঠে জল নদী বেয়ে নেমেছে সমুদ্রে। সে জন্য ইলিশের ভাল উৎপাদনের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন মৎস্য গবেষকেরা। কিন্তু উৎপাদন যে এমন মাত্রায় পৌঁছবে, তা আন্দাজ করা যায়নি। উৎপাদন ভাল হওয়ায় ইলিশের বাজার দর আরও কমবে বলে আশা ইলিশ-বিলাসী বাঙালির।