২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল ছবি। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি ছিল একদিকে থমথমে, অন্যদিকে সরগরম। শুক্রবার সেখানেই খোলা হাওয়া।
আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে বৃহস্পতিবার সাতসকালে পৌঁছে গিয়েছিল ইডির দল। পাশাপাশি তদন্তকারীরা পৌঁছেছিলেন সল্টলেকের দফতরেও। তার পরেই সংস্থার কর্মীদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অফিসে আসতে হবে না। বাড়ি থেকে কাজে বসে পড়ুন। শুক্রবার সেই অফিসই গমগম করছে। কাজে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থার কর্মীরা। পুরোদমে কাজ চলেছে সকাল থেকে।
যদিও সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের সদর দফতরে শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত দেখা যায়নি ‘বস্’ প্রতীককে। তিনি বাড়িতে রয়েছেন না অন্য কোথাও গিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে শুক্রবার সকালে প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়েছিল কলকাতা পুলিশের একটি দল। সেখান থেকে তারা বৃহস্পতিবারের ইডি অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার দুপুরের কিছু পরে প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ইডির দল। বিকাল গড়িয়ে সন্ধে নামার মুখে আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশিরত দলটিও বেরিয়ে যায়। তার পরে এক বার দফতরে গিয়েছিলেন প্রতীক। তবে শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে দফতরে দেখা যায়নি বলেই খবর। আইপ্যাকের একাধিক কর্মীর বক্তব্য, শুক্রবার তাঁরা অফিস গিয়ে বুঝতেই পারেননি যে, ২৪ ঘণ্টা আগে এই দফতরেই ঝড় বয়ে গিয়েছে। যে ঝড়ের রেশ আছড়ে পড়েছে সারা রাজ্যে। ইডি হানার প্রতিবাদে শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি বাস স্ট্যান্ড থেকে থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করেছেন তৃণমলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি বৃহস্পতিবারও লাউডন স্ট্রিট থেকে সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতর পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন। আইপ্যাকের এক কর্মী জানিয়েছেন, রোজ যেমন কাজ হয়, তেমনই হচ্ছে। অন্য এক জনের বক্তব্য, ‘‘অফিসে গিয়ে মনে হয়নি গতকাল সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিকই মনে হয়েছে। অন্য দিন যেমন থাকে।’’ বেশ কয়েক জন কর্মীর বক্তব্য, আইপ্যাকে ইডির হানার খবরে বন্ধুবান্ধব, পরিজনদেরও উদ্বিগ্ন করেছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।
ইডি অভিযানের প্রভাব পড়েছিল সদর দফতরে কর্মরত কর্মীদের উপরেই। জেলায় জেলায় ছড়িয়ে থাকা সংস্থার বিপুলসংখ্যক কর্মী বৃহস্পতিবারও স্বাভাবিক কাজেই মাঠে ময়দানে ছিলেন। কেবল সল্টলেকের দফতরে যে কর্মীরা কাজ করেন, তাঁদেরই বলা হয়েছিল ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করতে। তবে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন অনেকেই। ‘ভবিষ্যৎ’ নিয়ে বৃহস্পতিবার যাঁদের কণ্ঠে উদ্বেগ শোনা গিয়েছিল, শুক্রবার তাঁরাই সংস্থার উর্ধ্বতনদের থেকে ‘বার্তা’ পেয়ে তুলনায় স্বাভাবিক।