×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ মে ২০২১ ই-পেপার

‘ক্যারিয়ার’ নেই, ফাঁপরে বিমান সংস্থা

সুনন্দ ঘোষ
২৮ অগস্ট ২০১৮ ০১:৫২

কলকাতা থেকে তাঁদের ছিল নিত্য যাতায়াত। তাঁদের পরিচিতি ‘ক্যারিয়ার’ বলে। কলকাতা, এ রাজ্য, এমনকি ভিন্ রাজ্যের যুবকদের দল কলকাতা থেকে বিস্কুট, কাসুন্দি, আচার, পাঁপড়, মশলাপাতি নিয়ে যেতেন ব্যাঙ্কক, সিঙ্গাপুর, কুনমিং, হংকং। আর সেখান থেকে কলকাতায় নিয়ে আসতেন মূলত জামাকাপড়।

সেই ক্যারিয়ারদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে কলকাতা থেকে। গত ২৮ জুলাই রাতে আচমকাই কলকাতা বিমানবন্দরে হানা দেয় শুল্ক বিভাগের গোয়েন্দা শাখা ডিরেক্টরেট অব রেভেনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)। সেই রাতে পরপর সিঙ্গাপুর, ব্যাঙ্কক, চিনের কুনমিং থেকে আসা ৪২ জন এমন ক্যারিয়ারকে ধরে শুরু হয় তল্লাশি। ১৫ জনকে গ্রেফতারও করা হয়। সে খবর ছড়াতেই ক্যারিয়ারেরা কলকাতা দিয়ে যাতায়াত কার্যত বন্ধ করে দিয়েছেন বলে খবর। এতে সমস্যায় পড়েছে মূলত বিমান সংস্থাগুলি। কারণ, ব্যাঙ্কক রুটে প্রধানত ক্যারিয়ার-যাত্রীদের উপরেই অনেকটা নির্ভরশীল বিমান সংস্থাগুলি। প্রতিটি উড়ানেই ভাল সংখ্যক ক্যারিয়ার যাতায়াত করেন।

প্রতি যাত্রীই বিদেশ থেকে দেশে ঢোকার সময়ে ৫০ হাজার টাকার মালপত্র নিয়ে আসতে পারেন। বেশি আনলে অতিরিক্ত সেই মালের উপরে শুল্ক কর দিতে হয়। ক্যারিয়ারদের একাংশের অভিযোগ, তাঁরা চিরকালই অতিরিক্ত সেই মালপত্রের উপরে শুল্ক কর দিয়ে আসছেন। ডিআরআই-এর পাল্টা অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই দাম কম দেখিয়ে শুল্ক করে ছাড় নিচ্ছেন ক্যারিয়ারেরা।

Advertisement

কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশে বিদেশ থেকে জামাকাপড়-সহ অন্য সামগ্রী আমদানি করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। কেন্দ্র চাইছে, বিদেশ থেকে মালপত্র না এনে তা দেশের বাজারেই তৈরি করা হোক। এ কারণে সম্প্রতি বিদেশি জামাকাপড় আমদানি করার সময়ে ২৫ কোটি টাকার শুল্ক কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে কলকাতার দুই ব্যবসায়ীকে বুধবার গ্রেফতার করেছে ডিআরআই। আরও ধরপাকড় চলছে। অভিযোগ, বিদেশি সামগ্রীর যা দাম, শুল্ক কর ফাঁকি দিতে তার থেকে কম দাম দেখিয়ে তা আমদানি করা হচ্ছে।

কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করা ক্যারিয়ারদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনেছে ডিআরআই। বলা হয়েছে, তাঁরা বিদেশি মালপত্রের দাম কম দেখিয়ে শুল্ক কর ফাঁকি দিচ্ছেন। ক্যারিয়ারদের পাল্টা অভিযোগ, নামী ব্র্যান্ডের ছাপ মারা সানগ্লাস চিনের বাজারে ২০০ টাকায় পাওয়া যায়। সেটি নিয়ে এসে শহরে বিক্রি করা হয় ৫০০ টাকায়। ২৮ তারিখ রাতে ডিআরআই অফিসারেরা সেই সানগ্লাসের গায়ে যখন নামী ব্র্যান্ডের ছাপ দেখেন, তখন ইন্টারনেটে সেই ব্র্যান্ডের সানগ্লাসের দাম জেনে তা ধার্য করা হয় (প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা)। এক ক্যারিয়ারের অভিযোগ, ‘‘এর উপরে শুল্ক কর দিতে হলে ঢাকের দায়ে মনসা বিকিয়ে যাবে। এক তো বিমানে যাতায়াতের খরচ, ব্যাঙ্ককে গিয়ে থাকার খরচ রয়েছে। এখন এত টাকা শুল্ক কর দিতে হলে পোষাবে না।’’ তাই, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যাতায়াত।

কলকাতা বিমানবন্দরের শুল্ক দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ব্যাঙ্কক থেকে যা সোনা পাচার হচ্ছিল, তা মূলত এই ক্যারিয়ারদের একাংশের মাধ্যমেই করা হচ্ছিল। ডিআরআই-এর এই কড়াকড়িতে ক্যারিয়ারেরা যাতায়াত বন্ধ করে দিলে সোনা পাচার কমারও সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু, ক্ষতি হবে বিমান সংস্থাগুলির। ডিআরআই কর্তার কথায়, ‘‘বিমান সংস্থার ব্যবসা চলল কি না তা দেখার দায় আমাদের নয়।’’

Advertisement