কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে একক জরুরি হেল্পলাইন নম্বর, ১১২। নবান্নের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই নম্বরে ফোন করলেই পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য, অ্যাম্বুল্যান্স ও বিপর্যয় মোকাবিলা-সহ সব ধরনের জরুরি পরিষেবার সহায়তা এক ছাতার তলায় মিলবে। এর ফলে যে কোনও দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, অসুস্থতা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দ্রুত ও সুশৃঙ্খল ভাবে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে প্রতিটি রাজ্যেই পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য বা অন্যান্য জরুরি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে। কিন্তু কোনও ঘটনা ঘটলে কোন নম্বরে ডায়াল করতে হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বহু ক্ষেত্রেই ১০০ নম্বরে ফোন করে সাধারণ মানুষ দমকল বা চিকিৎসা পরিষেবার আবেদন জানান। তখন প্রথমে পুলিশের কাছে কল পৌঁছোয়, পরে সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করতে হওয়ায় জরুরি সময় নষ্ট হয়। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিকল্প ও সমন্বিত হেল্পলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রের পরিকল্পনায় এমন একটি নম্বর চালু করার কথা ভাবা হয়, যা মহিলা ও শিশুরাও সহজে মনে রাখতে পারে এবং বিপদের মুহূর্তে এক নম্বরেই সব রকম সহায়তা পাওয়া যায়। সেই ভাবনা থেকেই ‘ডায়াল ১১২’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং প্রতিটি রাজ্যকে এই পরিষেবা চালু করার নির্দেশ পাঠানো হয় দিল্লি থেকে। দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হলেও, পরিকাঠামোগত ঘাটতি ও অর্থ বরাদ্দের অভাবে এত দিন পশ্চিমবঙ্গে তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
নবান্ন সূত্রে খবর, এ বার ‘নির্ভয়া তহবিল’-এর অর্থে এই প্রকল্প শুরু করার বিষয়ে রাজ্য উদ্যোগী হয়েছে। এর আওতায় একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম গড়ে তোলা হবে, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১১২ নম্বরের সব ফোন কল গ্রহণ করা হবে। সেই কন্ট্রোল রুম থেকেই সংশ্লিষ্ট পুলিশথানা, দমকলকেন্দ্র বা নিকটবর্তী হাসপাতালের কাছে সাহায্যের বার্তা পাঠানো হবে। পুরো ব্যবস্থাটি জিপিএস ভিত্তিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। কল আসার সঙ্গে সঙ্গেই কলদাতার অবস্থান, মোবাইল নম্বর কার নামে নথিভুক্ত, প্রাথমিক ঠিকানা-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করা এবং তাঁর অবস্থান অনুযায়ী নিকটবর্তী রেসপন্স ইউনিট পাঠানো সহজ হবে। প্রশাসনের মতে, একক নম্বর ও সমন্বিত কন্ট্রোল রুম চালু হলে রাজ্যে জরুরি পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে এবং মানুষের ভরসার ঠিকানা হয়ে উঠবে ‘ডায়াল ১১২’।