E-Paper

চিকিৎসকদের পদোন্নতির তালিকা দু’দিনে, নেপথ্যে কি রাজনৈতিক কারণ?

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে শুধুমাত্র সাইকায়াট্রি বিভাগের পদোন্নতির তালিকা প্রকাশ করেছিল স্বাস্থ্য ভবন। কিছু দিন পরে শাসকদলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা যায়, তাতে প্রফেসর পদে উন্নীত হওয়া এক চিকিৎসকের নাম রয়েছে।

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৭:৩০

—প্রতীকী চিত্র।

মাত্র দু’দিনের নোটিসে বিভাগীয় পদোন্নতির ইন্টারভিউয়ে স্রেফ দু’টি বিভাগের প্রফেসর পদের প্রার্থীদের ডাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ইন্টারভিউয়ের দু’দিনের মাথায় সফলদের তালিকা প্রকাশ করা নিয়েও এ বার তৈরি হয়েছে জল্পনা। খোদ চিকিৎসকদেরই একাংশের কথায়, ‘‘হয়তো এ বারেও ওই তালিকায় থাকা কেউ কেউ ভোটে প্রার্থী হতে পারেন!’’ এই সংশয়ের মধ্যেই কাউন্সেলিং না-করে এক হাজার সিনিয়র রেসিডেন্টকে মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি জেলা স্তরের বিভিন্ন হাসপাতালে পোস্টিং দেওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

বিভিন্ন সুপার স্পেশালিটি বিভাগের ওই এসআর-দের মহকুমা বা জেলা হাসপাতালে কতটা কাজের সুযোগ রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ চিকিৎসকদেরই একাংশ। বিরোধী চিকিৎসক সংগঠনগুলির দাবি, ‘‘এক দিকে বিশেষ কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হল, যাতে প্রফেসর হয়ে শাসকদলের প্রার্থী হতে পারেন। আর এক দিকে অনৈতিক ভাবে কাউন্সেলিং ছাড়া পোস্টিং দেওয়া হল। চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারিতা চলছে।’’

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে শুধুমাত্র সাইকায়াট্রি বিভাগের পদোন্নতির তালিকা প্রকাশ করেছিল স্বাস্থ্য ভবন। কিছু দিন পরে শাসকদলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা যায়, তাতে প্রফেসর পদে উন্নীত হওয়া এক চিকিৎসকের নাম রয়েছে। সেই সময়েও বিরোধী চিকিৎসক সংগঠন থেকে দাবি করা হয়েছিল, শাসকদলের প্রার্থী ওই চিকিৎসককে প্রফেসর পদের সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিতেই তড়িঘড়ি শুধুমাত্র ওই একটি বিভাগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। কারণ, নির্বাচনে প্রার্থী হলে নিয়ম মতো সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে হয় কিংবা স্বেচ্ছাবসর নিতে হয়। এবং সেটি সরকারে গৃহীত হওয়াও বাধ্যতামূলক।

গত ডিসেম্বরে প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে পদোন্নতির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। এর পরে আচমকাই ২ মার্চ বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেডিয়ো-ডায়াগনসিস ও অপথ্যালমোলজি বিভাগে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর থেকে প্রফেসর পদে পদোন্নতির জন্য ৫ মার্চ ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। ৭ মার্চ রেডিয়ো-ডায়াগনসিসে পাঁচ জন এবং অপথ্যালমোলজিতে সাত জনের প্রফেসর পদে পদোন্নতির তালিকা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ভবন।

সূত্রের খবর, দক্ষিণবঙ্গের একটি মেডিক্যাল কলেজের অপথ্যালমোলজির এক চিকিৎসক বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। আবার জল্পনায় রয়েছে রেডিয়ো-ডায়াগনসিস বিভাগের এক চিকিৎসকের নামও। ‘অ্যাসোসিয়েশন অব হেল্‌থ সার্ভিস ডক্টর্স’-এর তরফে চিকিৎসক মানস গুমটা বলেন, ‘‘বিশেষ কাউকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই যে ঝড়ের গতিতে এ সব করা হচ্ছে, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, এই তালিকায় থাকা কেউ শাসকদলের প্রার্থী হবেন।’’ যদিও স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, ‘‘এমন কোনও বিষয় নেই। সব বিভাগেরই ইন্টারভিউ হবে।’’

আর জি করের ঘটনার পরে অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার ও আশফাকউল্লা নাইয়াদের আচমকা অন্যত্র পোস্টিং দেওয়া নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে অনিকেতকে পুনরায় আর জি করে পোস্টিং দিতে হয়েছে। তাই ‘প্রতিহিংসা’ থেকেই কাউন্সেলিং ছাড়া এবং মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি জেলা হাসপাতালে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে বলে দাবি চিকিৎসকদের একাংশের। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের নিয়মে মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসে আসতে হলে মেডিক্যাল কলেজে এক বছর এসআর থাকতেই হয়। তা হলে সেটির ভবিষ্যৎ কী? এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘‘যাঁদের জেলায় পোস্টিং হয়েছে, তিন বছরের বন্ড পোস্টিংয়ে তাঁরা যে কোনও বছর মেডিক্যাল কলেজে বদলি হতেই পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সকলকেই সব স্তরে কাজ করতে হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Promotion West Bengal health department Swasthya Bhavan

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy