নিজের সংসদীয় এলাকাতেই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার নিমতায় তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান উঠল। সাংসদের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিমও।
দমদমের সাংসদ সৌগত বৃহস্পতিবার নিমতা থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরোনোর পরই সাধারণ জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকে জনতা। ভিড়ের মধ্যে থেকে সাংসদকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ারও অভিযোগ ওঠে। যদিও সেই ডিম সাংসদের গায়ে লাগেনি। সৌগতের গাড়িতে গিয়ে পড়ে ডিম।
তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, নির্বাচনের পরে তাঁর সংসদীয় এলাকায় দলের বিভিন্ন কর্মী ‘আক্রান্ত’ হয়েছেন। তা নিয়েই থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে এসেছিলেন তিনি। থানা থেকে তিনি বেরোনোর সময়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। সাংসদের বক্তব্য, তিনি গাড়িতে ওঠার সময়ে ডিম ছোড়া হয়েছে তাঁকে লক্ষ্য করে। সেই ডিম তাঁর গায়ে না লাগলেও গাড়িতে এসে পড়েছে বলে দাবি সাংসদের। গোটা ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ। সৌগতের দাবি, বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
যদিও রাজ্যের শাসকদলের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। পুরোটাই সাধারণ জনতার ক্ষোভ। রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এ বিষয়ে জানান, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগ নেই। বিজেপি এ সব সমর্থন করে না বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, “এই ঘটনা অবাঞ্ছিত হলেও অস্বাভাবিক নয়।”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, দমদম লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ছ’টিতেই হেরেছে তৃণমূল। জিতেছে শুধু কামারহাটিতে। সেখানকার বিধায়ক মদন মিত্রের সঙ্গে সৌগতের সম্পর্ক কতটা ‘মধুর’ তা সকলেই জানেন। সৌগত ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ বলছেন, এখন সাংসদের বয়স হয়েছে। দীর্ঘ সময়ে হাসপাতালে ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি আপাতত কয়েকটা দিন যাতে তিনি জনসমক্ষে বেশি না আসেন, সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল সাংসদকে। তবে তিনি তা শোনেননি।
বৃহস্পতিবার নিমতা থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়ে জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দমদমের সাংসদ। সৌগত-ঘনিষ্ঠ বরাহনগরের এক তৃণমূল নেতা বলেন, “দমদম লোকসভায় বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় স্তরের এমন কিছু নেতার বিরুদ্ধে মানুষের নির্দিষ্ট ভাবে ক্ষোভ রয়েছে, যাঁদের আবার সৌগত রায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে সৌগত রায়ের উপরে।”