Advertisement
E-Paper

মনোজকে নিয়ে প্রশ্ন শুনেই রেগে উঠলেন শুভ্রা

ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত— কলকাতা বিমানবন্দরের পাঁচ দিনের ফুটেজ খতিয়ে দেখে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর অতিরিক্ত ডিরেক্টর মনোজ কুমারের সঙ্গে রোজ ভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর স্ত্রী শুভ্রাদেবীর ছবি পেয়েছে কলকাতা পুলিশ। তবে শুভ্রাদেবীকে জেরা করে বিশেষ সুবিধে করতে পারেনি তারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৩:৩২
সিজিও কমপ্লেক্সে মনোজ কুমার।  বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র

সিজিও কমপ্লেক্সে মনোজ কুমার। বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র

ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত— কলকাতা বিমানবন্দরের পাঁচ দিনের ফুটেজ খতিয়ে দেখে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর অতিরিক্ত ডিরেক্টর মনোজ কুমারের সঙ্গে রোজ ভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর স্ত্রী শুভ্রাদেবীর ছবি পেয়েছে কলকাতা পুলিশ। তবে শুভ্রাদেবীকে জেরা করে বিশেষ সুবিধে করতে পারেনি তারা। মনোজ কুমারকে নিয়ে প্রশ্ন শুনেই তিনি রেগে উঠেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

২৭ ডিসেম্বর থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্দিষ্ট পাঁচ দিনের ফুটেজ সপ্তাহ দুয়েক আগে চেয়ে পাঠানো হয় লালবাজার থেকে। বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভিতরে প্রধানত চেক-ইন কাউন্টার, নিরাপত্তা-বেষ্টনী এবং অ্যারাইভাল হলের ছবি চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, তার মধ্যে কেবল ১৮ জানুয়ারির ফুটেজেই দু’জনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। ঘনিষ্ঠ শিবিরে মনোজও জানিয়েছেন, সে দিন দিল্লি যাওয়ার সময়ে তাঁর সঙ্গে শুভ্রাদেবীর দেখা হয়।

গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুভ্রাদেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাউথ সিটি মলে তাঁর ফ্ল্যাটে গিয়ে পুলিশ অফিসারদের অভিজ্ঞতা অবশ্য সুখকর হয়নি। পুলিশের একাংশের অভিযোগ, শুভ্রাদেবী তদন্তের ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করেছেন।

সূত্রের খবর, এ দিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর পৌনে একটা পর্যন্ত ডিসি ডিডি২-এর নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের একটি দল জেরা করে শুভ্রাদেবীকে। তদন্তকারীদের কথায় মনোজ কুমারের সঙ্গে দিল্লি যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই ঝাঁঝিয়ে উঠে শুভ্রাদেবী জানিয়েছেন, তিনি কোথায় যাবেন, কার সঙ্গে যাবেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার।

রোজ ভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে শুভ্রাদেবীর সম্পর্কের অবনতি নিয়েও এ দিন প্রশ্ন ওঠে। সে ক্ষেত্রেও শুভ্রাদেবী পুলিশ অফিসারদের জানান, তাঁর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তিনি পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করতে চান না। সূত্রের খবর, হাওয়ালা মারফত টাকা বিদেশে পাচারের ক্ষেত্রে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি জানি না, কোথায় টাকা গিয়েছে। আপনারা যখন জানতে পেরেছেন, আপনারাই দেখুন।’’ বুধবারেও শুভ্রাদেবীর ফ্ল্যাটে গিয়ে জেরা করে তেমন সুবিধে করতে পারেননি পুলিশ অফিসারেরা। এ দিন শুভ্রাদেবীর সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

পুলিশ সূত্রের খবর, শুক্রবার মনোজকেও লালবাজারে আসতে বলা হয়েছে। এ কারণে, বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে তাঁকে সে বিষয়ে নোটিস দিয়ে এসেছেন কলকাতা পুলিশের এক অফিসার। এ দিনই দিল্লি থেকে ইডি-র অফিসারেরা এসে রোজ ভ্যালি ও অন্য অর্থলগ্নি সংস্থার তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখছেন। ইডি সূত্রের খবর, রোজ ভ্যালির তদন্তের দায়িত্ব ছিল মনোজের উপরেই। এত দিন ধরে সেই তদন্তের ক্ষেত্রে গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব হয়েছে কি না, তাই খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে এই দলটি।

এই ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক নেতাদের একাংশও মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ দিন ইডি অফিসার মনোজ কুমারের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘‘এই অফিসার ৮৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছিলেন। দক্ষ অফিসার বলেই তো শুনেছিলাম। উনি নাকি বলেছেন, তদন্তের কারণেই ওই মহিলার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখছিলেন।’’ দিলীপবাবুর কথায়, ‘‘সিসিটিভি ফুটেজে যে ছবি এসেছে, তা দেখে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কে কাকে হানিট্রাপে ফেলেছিল, সেটা তদন্ত সাপেক্ষ।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, সম্প্রতি লালবাজারের কাছে ম্যাঙ্গো লেনে একটি সংস্থায় হানা দেয় কলকাতা পুলিশ। অভিযোগ ছিল, বেআইনি ভাবে এ দেশের টাকা হাওয়ালা মারফত বিদেশে পাঠানোর কাজ করত এই সংস্থাটি। পুলিশের দাবি, সেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে জানা যায়, রোজ ভ্যালি অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা শুভ্রাদেবীর অ্যাকাউন্ট ঘুরে ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। অভিযোগ, সেই টাকা হাওয়ালা মারফত বিদেশে পাচার হয়ে গিয়েছে। এই লেনদেনে শুধু শুভ্রাদেবী নয়, মনোজেরও নাম পাওয়া গিয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

Suvra Kundu Manoj Kumar Rose valley
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy