ট্রেনে খাবার পৌঁছে দিতে এসেছিলেন খাবার সরবরাহকারী জনপ্রিয় সংস্থার ডেলিভারি কর্মী। কিন্তু খাবার পৌঁছে দিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে প্ল্যাটফর্মে মুখ থুবড়ে পড়লেন তিনি। তবে চোট দেখারও সময় ছিল না তাঁর কাছে। আবার উঠে দৌড়োতে শুরু করলেন। মনখারাপ করা তেমনই একটি ঘটনার ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। ডেলিভারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সমাজমাধ্যম জুড়ে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর রেলস্টেশনে। জানা গিয়েছে, প্রশান্তি এক্সপ্রেসের এক যাত্রীর কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, এক্সপ্রেস ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচের এক যাত্রীর হাতে খাবার তুলে দিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এক ডেলিভারি কর্মী। কিন্তু ট্রেন তত ক্ষণে চলতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে গতিও বাড়াচ্ছে। ফলে চলন্ত ট্রেন থেকে নামার সময় ভারসাম্য হারিয়ে প্ল্যাটফর্মে পড়ে যান ওই যুবক। মুখ থুবড়ে পড়েন তিনি। তবে মুহূর্তেই আবার উঠে দাঁড়ান। প্ল্যাটফর্মের বাইরে যাওয়ার জন্য দৌড়োতে শুরু করেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ডেডলি কলেশ’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার অনেকে ওই ডেলিভারি কর্মীর নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটিকে নিরাপত্তার ব্যর্থতা মন্তব্য করে ডেলিভারি সংস্থাকে ওই কর্মীকে সাহায্য করারও দাবি তুলেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটাগরিকদের অনেকে আবার ট্রেনে খাবার সরবরাহ নিয়ে কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশিকা চালু করারও দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন:
যদিও পুরো বিষয়টিতে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওই খাবার সরবরাহকারী জনপ্রিয় সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই ডেলিভারি কর্মী সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং অক্ষত রয়েছেন। সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়েছে, তারা ডেলিভারি কর্মীদের চলন্ত ট্রেনে উঠতে বা নামতে বারণ করে এবং এই ধরনের ঘটনা রোধ করার জন্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আট-দশ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে কেনা পণ্য পৌঁছোনোর ঝুঁকি এবং তা না পারলে জরিমানার বিষয় নিয়ে দেশ জুড়ে ধর্মঘট ডেকেছিলেন গিগ কর্মীরা। এমন পরিষেবা প্রাণঘাতী দাবি তুলে সময়ের কড়াকড়ি শিথিলের বার্তাও দেন ধর্মঘটীরা। তার মধ্যেই হায়দরাবাদে দ্রুত পণ্য পৌঁছোতে গিয়ে এমনই এক পরিষেবা সংস্থা জ়েপ্টোর ডেলিভারি কর্মীর মৃত্যু ফের সেই অভিযোগ উস্কে দিয়েছে। একই সঙ্গে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে অনন্তপুরের স্টেশনের ঘটনাও।