শুধু কলকাতাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন শহরে পালিত হবে বাংলা সাহিত্য উৎসবের পরবর্তী অধ্যায়
২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। বিগত ৭ বছর ধরে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের বাহবা দেন তিনি। তিনদিন ধরে একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল এবিএসইউ।
শীতের শুরুতেই কলকাতায় মহাসাড়ম্বরে আয়োজিত হল বাংলা সাহিত্য উৎসবের অষ্টম অধ্যায়। স্বাভাবিক নিয়মেই অতিমারির সময় পেরিয়ে পুরনো ছন্দে ফিরেছিল এই সাহিত্য উৎসব। পার্ক স্ট্রিটের শতাব্দীপ্রাচীন স্টোরে ২৫, ২৬ ও ২৭ নভেম্বর এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। বিগত ৭ বছর ধরে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের বাহবা দেন তিনি। তিনদিন ধরে একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল এবিএসইউ।
২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। বিগত ৭ বছর ধরে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের বাহবা দেন তিনি।
তিনদিন ধরে একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল এবিএসইউ। উৎসবে উপস্থিত ছিলেন পবিত্র সরকার, হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত, আবুল বাশার, তিলোত্তমা মজুমদার, বিনোদ ঘোষাল, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্দাক্রান্তা সেন, উল্লাস মল্লিক, রূপম ইসলাম সহ বহু বিশিষ্টজনেরা।
তিনদিন ধরে বাঙালিয়ানা এবং বাংলা সাহিত্যের একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চক্র বসেছে অক্সফোর্ড বুকস্টোরে। বিশিষ্ট জনেরা তাঁদের ভাবনা চিন্তা এবং উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন:
২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠান শেষে জানানো হয়, বাংলা সাহিত্য উৎসব শুধুমাত্র কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেহেতু উৎসবের জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী, তাই আগামী বছর থেকে এবিএসইউ অনুষ্ঠিত হবে কলকাতা-সহ ভারতের একাধিক শহরে।
এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের ডিরেক্টর তথা অক্সফোর্ড বুকস্টোরের সিইও স্বাগত সেনগুপ্ত এই প্রসঙ্গে বলেন, “শুরুর সময় থেকেই বিভিন্ন ভাবে এই উৎসব ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে। বিগত সময়ে বিভিন্ন মেট্রো শহর এবং বেশ কয়েকটি টিয়ার ২ শহরের বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এই মর্মে অনুরোধ এসেছে যে, এই উৎসব যেন বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়। এই আবেদনে সাড়া দিয়ে আগামী বছর থেকে ভারতের বিভিন্ন শহরে পৌঁছে যাবে এবিএসইউ।”
বাংলা সাহিত্য উৎসবের জন্য এই বছরটা ছিল নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দু’বছর কোভিডের কারণে উৎসব হয়েছে অনলাইনে। তবে এবার তিন দিনের এই সাহিত্য উৎসব আগের মতই অনুষ্ঠিত হয়েছে অনসাইট ফরম্যাটে। অনুষ্ঠান স্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল অক্সফোর্ড বুকস্টোরকে। ঘটনাক্রমে এই বছরই শতবর্ষ উদযাপন করল অক্সফোর্ড বুকস্টোর।
উৎসবের এই আনন্দঘন মুহূর্তেই জানানো হয় যে আগামী দিয়ে অক্সফোর্ড বুক স্টোরে বাংলা লিটল ম্যাগাজিন কর্নার তৈরি হবে। বর্তমানে সারা ভারতে বাংলা ভাষায় আনুমানিক ২০০০ লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। অক্সফোর্ড বুকস্টোরের অনলাইন স্টোর অনলাইনেই এই সব বাংলা লিটল ম্যাগাজিন বিক্রি করার কথা ভাবনাচিন্তা করছে।
আরও পড়ুন:
বাংলায় লিটল ম্যাগাজিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও, বহু ক্ষেত্রে বহু মানুষ বাংলা সাহিত্যের এমন অমোঘ ভান্ডার থেকে ব্রাত্য থেকে যান। অক্সফোর্ড বুকস্টোরে এই কর্নারের এর লক্ষ্য আরও অনেক বেশি লোকের কাছে পৌঁছনো। লাভের অংশীদারিত্ব ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মডেলের ভিত্তিতে এই ম্যাগাজিনগুলি বিক্রি করা হবে।
বর্তমান সময়ে বিদেশী ভাষার আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়ে বহু ক্ষেত্রে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা ভাষা। ভাষার দৌড়ে অনেক সময় পিছিয়ে পড়ছে আমাদের মাতৃভাষা।
সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলা সাহিত্য উৎসবের মতো একটি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব সত্যিই অনস্বীকার্য। আগামী দিনে এই অনুষ্ঠান যাতে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে আরও ভাল ভাবে পৌঁছে যেতে পারে, তারই ব্যবস্থা করছে উদ্যোক্তারা।