Advertisement
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
সামনে ভোট, চাই জল

আর্সেনিক বিষ সত্ত্বেও নলকূপে ভরসা মমতার

পঞ্চায়েত নির্বাচন সামনেই। তাই জল-সমস্যার সুরাহায় সেখানেও গভীর নলকূপ বসানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এবং জেলায় পানীয় জলের টানাটানির মোকাবিলায় এ ভাবে নলকূপ বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০১৮ ০৪:০৯
Share: Save:

মাটির তলায় ওত পেতে আছে আর্সেনিক-দানব। তা জেনেও পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নলকূপ বসাচ্ছে কলকাতা পুরসভা।

মাটির তলায় আর্সেনিক-দানব ওত পেতে আছে কলকাতা সংলগ্ন আর্সেনিক-প্রবণ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচন সামনেই। তাই জল-সমস্যার সুরাহায় সেখানেও গভীর নলকূপ বসানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এবং জেলায় পানীয় জলের টানাটানির মোকাবিলায় এ ভাবে নলকূপ বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।

মুখ্যমন্ত্রী জেলায় জেলায় গভীর নলকূপ বসানোর পরামর্শ দেওয়ায় আর্সেনিক গবেষকেরা উদ্বিগ্ন। তাঁদের অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাচ্ছেন।

সোমবার পৈলানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক বিধায়ক এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পানীয় জলের সমস্যা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অবিলম্বে পানীয় জলের ব্যবস্থা করুন।’’ পঞ্চায়েত দফতরের তরফে তাঁকে জানানো হয়, কয়েক মাস আগেই জেলাশাসকের দফতরে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য চার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গভীর নলকূপ বসানোর ব্যবস্থা করুন।’’

আরও পড়ুন: নজরে অফিসারেরা, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

পানীয় জল না-পেলে তার প্রভাব যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে পড়বে, সেটা বুঝিয়ে দিতে কসুর করেননি মুখ্যমন্ত্রী। মমতার মন্তব্য, ‘‘মানুষ আপনাদের (প্রশাসনিক কর্তাদের) কিছু বলবেন না। কিন্তু আমাদের সামনে পেলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করবেন। এলাকায় গেলে আমাদের বলবেন।’’ নলকূপ বসানোর কাজে কেউ যাতে ‘কাটমানি’ খেতে না-পারে, তার জন্য দফতরের অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদেরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ দফতরকে তিনি নির্দেশ দেন, ওই সব নলকূপে বিদ্যুৎ-সংযোগ দিতে তারা যেন তৎপর হয়।

অনেক ক্ষেত্রে পানীয় জলের পাইপ ফাটিয়ে চাষের মাঠে জল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘জলের লাইন ফাটিয়ে চাষের জল নিতে দেব না। যারা এটা করছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’’

দক্ষিণ ১৪ পরগনার বিষ্ণুপুর, বারুইপুর, সোনারপুর, ভাঙড়, জয়নগর ‘অতি আর্সেনিক-প্রবণ’ এলাকা। ওই সব এলাকায় গভীর নলকূপ বসিয়ে পানীয় জল এবং পাম্প চালিয়ে চাষের জল তোলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাজ্যের আর্সেনিক টাস্ক ফোর্স সুপারিশ করেছে বারবার। গঙ্গার পরিশোধিত জল ওই সব অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাম জমানায় নোদাখালিতে জল প্রকল্প গড়া হয়েছিল। কিন্তু আর্সেনিক-প্রবণ অনেক এলাকা এখনও সেই প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে না। সেখানে গঙ্গার পরিশোধিত জল সরবরাহের দাবি উঠছে দীর্ঘদিন ধরে। তার বদলে ওই সব এলাকায় নতুন করে গভীর নলকূপ বসালে তার জল থেকে আর্সেনিকের বিপদ আরও ছড়িয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‘‘অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করে কারিগরি বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তার পরে নলকূপ বসানো হবে,’’ বলছেন পঞ্চায়েত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি
দফতরের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সুব্রতবাবু অবশ্য এ দিনের জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে ছিলেন না।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE