Advertisement
E-Paper

হাসপাতাল ছেড়ে সেফ হাউজেও উপসর্গহীন রোগীরা ফিরতে নারাজ

এম আর বাঙুরের সুপার শিশির নস্কর জানান, ৫৯ জনকে বুধবার সেফ হাউসে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মাত্র ১৬ জনকে সরানো গিয়েছে। বাকিদের বক্তব্য, সুস্থ করে হয় তাঁদের বাড়ি পাঠাতে হবে, নয়তো তাঁরা হাসপাতালেই থাকবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২০ ০৬:১৪
 ‘সেফ হাউস’ পরিদর্শনে ফিরহাদ হাকিম। —ফাইল চিত্র।

‘সেফ হাউস’ পরিদর্শনে ফিরহাদ হাকিম। —ফাইল চিত্র।

রিপোর্ট এসেছে করোনা পজ়িটিভ। অথচ শরীরে উপসর্গ নেই। এমন রোগীদের ভিড়ে ভরে যাচ্ছে সরকার নির্দেশিত করোনা হাসপাতালের শয্যা। যদিও সরকারি চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, গৃহ-পর্যবেক্ষণে রেখে সহজেই ওই রোগীদের চিকিৎসা করা সম্ভব। এমনকি সেফ হাউসে রেখেও চিকিৎসা করা যেতে পারে। বাড়ি তো দূর, হাসপাতাল ছেড়ে সেফ হাউসেও উপসর্গহীন রোগীদের অনেকেই যেতে চাইছেন না।

জেলাগুলিতে রোগীর তুলনায় হাসপাতালে বেড বেশি। তাই সেখানে সেফ হাউসগুলি কার্যত ফাঁকা। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘‘সরকারি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি থাকা উপসর্গহীন রোগীদের সম্প্রতি সেফ হোমে সরাতে শুরু করেছি।’’

এম আর বাঙুরের সুপার শিশির নস্কর জানান, ৫৯ জনকে বুধবার সেফ হাউসে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মাত্র ১৬ জনকে সরানো গিয়েছে। বাকিদের বক্তব্য, সুস্থ করে হয় তাঁদের বাড়ি পাঠাতে হবে, নয়তো তাঁরা হাসপাতালেই থাকবেন। সেফ হাউসে চিকিৎসক-নার্স রয়েছেন, সেখানে কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে বাঙুরে ফিরিয়ে আনা হবে— এমন আশ্বাস দেওয়ার পরও তাঁরা রাজি হননি। তাই অনেক গুরুতর অসুস্থ রোগীকে শয্যা দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান সুপার।

স্বাস্থ্য দফতরের খবর, মহানগরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এম আর বাঙুর ছাড়া কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ, বেলেঘাটা আইডি এবং সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে সরকারি ভাবে কোভিড চিকিৎসা হচ্ছে। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মেডিক্যাল, আইডি এবং বাঙুরে। তিনটিতেই আইসিইউ-শয্যা ভর্তি। এই হাসপাতালগুলিতে করোনার জন্য যত শয্যা রয়েছে, তার ৮০% ভর্তি থাকলেও সংশ্লিষ্ট রোগীদের উপসর্গ নেই বলে দাবি।

উপসর্গহীন রোগীদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে না কেন?

স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশের অভিযোগ, উপসর্গ থাক বা না থাক, কেউ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন খবর পাওয়া মাত্র কার্যত খড়্গহস্ত হয়ে উঠছেন প্রতিবেশীরা। অভিযোগ, কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতারাও রোগী ভর্তির জন্য চাপ তৈরি করছেন স্বাস্থ্য দফতরের উপরে।

যাঁদের বাড়িতে কোয়রান্টিনে থাকার ব্যবস্থা নেই, তাঁদের জন্য কেন কোয়রান্টিন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে না? রাজ্যের গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘‘কোয়রান্টিন কেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়লে আগামী দিনে গুরুতর অসুস্থদের হাসপাতালে চিকিৎসা করানো মুশকিল হবে। যত দূর জানি, সরকার এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।’’ স্বাস্থ্যসচিব জানান, কলকাতা মেডিক্যাল এবং বাঙুরে আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।

জেলার চিত্র কিছুটা অন্য রকম। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সেফ হাউসগুলি নিয়ে অভিযোগ, ওখানে থাকার মতো অবস্থা নেই। বাকি জেলায় সেফ হাউস কার্যত ফাঁকা। পুরুলিয়া জেলায় তিনটি সেফ হাউস খোলা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি বন্ধ হয়েছে। বাকি দু’টির মধ্যে একটিতে পাঁচ জন রয়েছেন। অন্যটি ফাঁকা। পূর্ব বর্ধমানের একটি ও বাঁকুড়ার তিনটি সেফ হাউসই খালি। পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রস্তাবিত ছটি সেফ হোমের একটিও এখনও চালু হয়নি৷ পূর্ব মেদিনীপুরে হলদিয়ায় মাত্র একটি চালু আছে। মুর্শিদাবাদে করোনা হাসপাতালে যথেষ্ট বেড খালি থাকায় সেফ হাউস হিসেবে একটি বাড়ি নির্দিষ্ট করা হলেও তা চালু হয়নি।

নদিয়ার তিনটি সেফ হোমে কেউ নেই। হুগলির গোঘাটের সেফ হাউসে এক জনও আসেননি। পাণ্ডুয়ার কর্মতীর্থে ৬৫ শয্যার সেফ হাউসে ভর্তি ১৩ জন করোনা পজ়িটিভ রোগী।

উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল সম্পর্কিত যাবতীয় আপডেট পেতে রেজিস্টার করুন এখানে

Coronavirus Health COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy