মাঝে এক দিনের বিরতি। ফের প্রকাশ্যে চলে এল জেলা সদরের বেহাল নিরাপত্তার ছবিটা।
পরপর ছিনতাই, চুরির ঘটনার পরে এ বার আস্ত একটি এটিএম ভেঙে হল চুরির চেষ্টা। রক্ষীহীন ওই এটিএমের উপরের অংশ পুরোপুরি ভেঙে ফেললেও কোনও টাকা বের করতে পারেনি দুষ্কৃতীরা। অক্ষত রয়েছে কাউন্টারের ভিতরে থাকা সিসিটিভিটিও। সেই ছবি দেখে দুষ্কৃতীদের পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ।
সিউড়ি–বোলপুর রাস্তায় সিউড়ির স্টেশন বাজার এলাকায় থাকা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমে ওই চুরির চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার গভীর রাতে। বৃহস্পতিবার ভোরে বিষয়টি জানাজানি হয়। যে বাড়ির নীচেরতলায় এটিএম কাউন্টারটি রয়েছে, তার মালিক এক সংবাদপত্রের হকার মারফত প্রথম খবরটি পান। একই সপ্তাহে শহরের গলিপথে গুলি চালিয়ে ছিনতাই, থানার পাশে পরপর দোকানে চুরি এবং একই রাতে এক বাসিন্দার বাড়িতে চুরির ঘটনার পরে নতুন সংযোজন। জেলা সদরে এটিএম ভেঙে চুরির চেষ্টা অবশ্য এই প্রথম নয়। গত বছরই সিউড়ি শহরের বড়বাগান ও এসপি মোড় দু’টি জায়গায় থাকা দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম কাউন্টারেও একই ভাবে লুঠপাটের চেষ্টা চলেছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, সিউড়ির হাটজনবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের একটি শাখার অধীনে সিউড়ি স্টেশন বাজারে বছর তিনেক আগেই খোলা হয়েছে ওই এটিএম কাউন্টারটি। এ দিন সকালে এক সংবাদপত্রের এক হকার ওই রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় খেয়াল করেন এটিএম মেশিনটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই সময়ে প্রাতঃভ্রমণে বেড়িয়েছিলেন ওই বাড়ির অন্যতম মালিক প্রদীপ মিশ্র। খবরটি পাওয়ার পরেই তিনি দাদা অরুণ মিশ্রকে জানান। অরুণবাবু এ দিন বলেন, ‘‘ভাইয়ের কাছে খবর পেয়ে আমরা এসে দেখি মেশিনের উপরের অংশ পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘরময় কাচ ও যন্ত্রাংশের টুকরো ছড়ানো ছিটানো। তখনই এটিএম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থা (বেসরকারি) ও পুলিশকে খবর দিই।’’ খবর পেয়ে সংস্থার লোক এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
কী বলছেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ?
সিউড়ি শাখার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে (ভেন্ডার) এটিএম কাউন্টারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকে সেই সংস্থারই অধীনস্থ কোনও সংস্থার। যারা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে এটিএম ভরা এবং যন্ত্রাংশের যাবতীয় সমস্যার দেখভাল করে থাকে। চুরির চেষ্টা হওয়া ওই এটিএম কাউন্টারের জন্যও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ব্যাঙ্কের শাখা প্রবন্ধক গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এ দিন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী মারফতই ঘটনার খবর পাই। রিজিওনাল অফিসকে জানিয়েছি। পুলিশের কাছে অভিযোগ করার কাজটাও ওই সংস্থা মারফতই হবে। তবে, বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়রেরা এটিএমটি পরিদর্শন করেছেন। সিসি ক্যামেরা অক্ষত থাকলেও মেশিন ও আলো ভেঙে ফেলেছে দুষ্কৃতীরা।’’
এ দিকে, ওই এটিএমে রক্ষী না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। যার উত্তরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার এগজিকিউটিভ (অপারেশন) তারকনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘যে সংস্থার (ভেন্ডার) সঙ্গে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের চুক্তি হয়েছে, তাদের সিদ্ধান্তের উপরেই রক্ষী রাখা না রাখার বিষয়টি নির্ভর করছে।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, সিউড়ির ৪৫টি এটিএম-সহ জেলার ১৮৪টি এটিএম তাঁদের সংস্থার দায়িত্বে রয়েছে। সিউড়ির ওই এটিএম যন্দ্রটির চূড়ান্ত ক্ষতি করলেও দুষ্কৃতীরা টাকা বের করেত পারেনি। অন্য দিকে, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার কর্মীরা মনে করছেন, সিসিটিভির ক্যামেরাটা অক্ষত থাকায় ঘটনার পিছনে কে বা কারা, তা জানতে সুবিধা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন বিকাল পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। তবে, পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।