E-Paper

মালখানায় থাকা দামি সম্পত্তি মালিককে ফেরাতে সচেষ্ট জিআরপি

১৯৯৭ সাল। একটি চুরির মামলার তদন্তে রেল পুলিশের দল উদ্ধার করেছিল প্রায় আট গ্রাম ওজনের সোনার চেন। সেই মামলা এখনও শেষ না হলেও ওই সোনার চেন বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে রেল পুলিশের মালখানায়।

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৮

—প্রতীকী চিত্র।

১৯৮০ সাল। তল্লাশি করতে গিয়ে রেল পুলিশ ধরে ফেলেছিল একটি ডাকাতদলকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় সোনার গয়না-সহ বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী। ৪৫ বছর আগের ওই মামলা এখন তামাদি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, রেল পুলিশের মালখানায় এখনও রয়ে গিয়েছে সেই গয়না।

১৯৯৭ সাল। একটি চুরির মামলার তদন্তে রেল পুলিশের দল উদ্ধার করেছিল প্রায় আট গ্রাম ওজনের সোনার চেন। সেই মামলা এখনও শেষ না হলেও ওই সোনার চেন বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে রেল পুলিশের মালখানায়।

উপরের দু’টি ঘটনাই শুধু নয়। রাজ্য রেল পুলিশের বিভিন্ন থানার মালখানায় এমন ৫০৯টি মূল্যবান সম্পত্তির (সোনার গয়না, টাকা) সন্ধান মিলেছে। সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওই সব সম্পত্তি রয়ে গিয়েছে দাবিদারহীন ভাবেই। এ বার বাজেয়াপ্ত হওয়া সেই সম্পত্তি কী ভাবে তার মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য সচেষ্ট হয়েছে রাজ্য রেল পুলিশ। ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন রেল পুলিশের কর্তারা। ইতিমধ্যে রেল পুলিশের চারটি জেলার ৪৬টি রেল থানা বা জিআরপি-র মালখানায় ওই রকম কত সম্পত্তি আছে, তার হিসাব করেছেন রেল পুলিশের আধিকারিকেরা। এ ছাড়াও রেল পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, তাদের বিভিন্ন থানার মালখানায় থাকা ওই সম্পত্তির মোট অঙ্ক কত, তা-ও হিসাব করা হবে।

রেল পুলিশের এক কর্তা জানান, কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন রেল পুলিশ থানার মালখানায় পড়ে রয়েছে ওই মূল্যবান সম্পত্তি এবং নগদ টাকা। ৫০৯টি সম্পত্তির মালিক কারা, তা খুঁজে বার করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে সে সব ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। মালিককে না পেলে নিয়ম মেনে ওই সম্পত্তি নিলাম করা হবে।

চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির পরে উদ্ধার হওয়া সোনার গয়না, টাকা থেকে যায় রেল পুলিশের হেফাজতে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, যত দিন না মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে, তত দিন মালিককে ওই সম্পত্তি ফেরত দেওয়া যায় না। নোটবন্দির সময়ে বদলানো পুরনো নোটও রয়ে গিয়েছে মালখানায়।

রেল পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৪০-৫০ বছর ধরে কত সম্পত্তি জিআরপি থানায় জমা রয়েছে, তার হিসাব করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, শিয়ালদহ রেল পুলিশ জেলার মালখানায় থাকা বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির সংখ্যা ১৭০। হাওড়া রেল পুলিশ জেলার মালখানায় রয়েছে ২০০টি সম্পত্তি, খড়্গপুরে ১২১টি। শিলিগুড়ি রেল পুলিশ জেলায় রয়েছে সবচেয়ে কম, ১৮টি সম্পত্তি।

রেল পুলিশের কর্তারা জানান, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির যে তালিকা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে কিছু মামলার বিচার-পর্ব শেষ হয়নি। কিছু মামলা তামাদি হয়ে গিয়েছে। কিছু সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছে, যেগুলি কোন মামলায় যুক্ত, তারই হিসাব নেই। তাই সেগুলি আগে নিলাম করা হতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Indian Railways GRP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy