রাজ্যে প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার রেলপথ আছে। পুলিশের তথ্য় বলছে, এই রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় বছরে গড়ে ২০০০টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। শিয়ালদহ এবং হাওড়া পুলিশ জেলাতেই এই মৃত্যুর ঘটনা সব থেকে বেশি। এই মৃত্যুর হার কমাতে এ বার তৎপর হয়েছে রেল পুলিশ। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে ২৭টি জায়গাকে সব থেকে বেশি ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় মানুষকে চলন্ত ট্রেনের বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার কাজও শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে দমদম-বেলঘরিয়া, দমদম-বিধাননগর, সোদপুর-আগরপাড়া, পার্ক সার্কাস-শিয়ালদহ কিংবা হাওড়ার আন্দুল, বেলুড়, হুগলির কামারকুণ্ডুর মতো এলাকায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। রেল পুলিশের এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘সমীক্ষায় উঠে আসা কিছু জায়গাকে বেছে নিয়ে রেললাইনের পাশে পুলিশকর্মী বা সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। রেললাইন পারাপারের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক ও সচেতন করা হচ্ছে।’’ ওই পুলিশকর্তার দাবি, অসতর্ক ভাবে বা বিপদ ঘাড়ে নিয়ে রেললাইন পেরোতে গিয়েই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। দুর্ঘটনা সার্বিক ভাবে কমেছে কিনা, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত করে বলতে না-পারলেও গত ডিসেম্বর মাসে শিয়ালদহ এবং হাওড়া রেল পুলিশ জেলায় ট্রেনের ধাক্কায় ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা মাসিক গড়ের থেকে কম বলে রেল পুলিশের দাবি।
সচেতনতার প্রচারের পাশাপাশি রেললাইন থেকে দুর্ঘটনার পরে মৃতদেহ সরানোর ব্যাপারেও তৎপর হয়েছে রেল পুলিশ। সূত্রের খবর, বিভিন্ন জায়গা থেকে রেলে কাটা পড়া দেহ সরাতে দেরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠছিল। তাতে রেল চলাচলও ব্যাহত হচ্ছিল। রেল পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতদেহ সরানোর জন্য ডোমেরা দেরি করে পৌঁছনোর ফলেই এই সমস্যা হচ্ছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তার পরেই রেল পুলিশের থানা ও ফাঁড়িগুলিকে শীর্ষকর্তাদের নির্দেশ, ডোমদের অপেক্ষায় না থেকে রেল পুলিশের কর্মীরাই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত, ভিডিয়োগ্রাফি এবং ছবি তোলার কাজ শেষ করে রেললাইন থেকে দেহটি সরানোর বন্দোবস্ত করবেন। এ ব্যাপারে পুরস্কারের কথাও জানিয়েছেন রেল পুলিশের শীর্ষকর্তারা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)