E-Paper

অভিরূপকে বর্জন নয়, জানাল সিন্ডিকেট

উপাচার্য বদলের পর থেকেই শিক্ষাপ্রাঙ্গণে আনাগোনা বাড়ছিল অভিরূপের। গত সমাবর্তনেও রাজ‍্যপাল বা বিশিষ্ট অতিথিদের গা ঘেঁষেই তাঁকে দেখা যায়।

ঋজু বসু

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৩৫
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। — ফাইল চিত্র।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের বৈঠকে শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ডাকাবুকো নেতা অভিরূপ চক্রবর্তীর উপরে নিষেধাজ্ঞা তোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পূর্বতন উপাচার্য (অস্থায়ী) শান্তা দত্ত দে-র উদ্দেশে কুকথা বলার অভিযোগ ওঠার পরে টিএমসিপি-র অন্যতম রাজ‍্য সম্পাদক অভিরূপের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোনওরকম পঠনপাঠনই নিষিদ্ধ করে বহিষ্কার করা হয়। শান্তাই তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। এর আগেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন‍্য অভিরূপের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু উপাচার্য বদলের পর থেকেই শিক্ষাপ্রাঙ্গণে আনাগোনা বাড়ছিল অভিরূপের। গত সমাবর্তনেও রাজ‍্যপাল বা বিশিষ্ট অতিথিদের গা ঘেঁষেই তাঁকে দেখা যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বারের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে বক্তব্য, এর আগের উপাচার্যের আমলে অভিরূপের বিষয়ে সিন্ডিকেটে একটি নোট তৈরি হলেও তা চূড়ান্ত (কনফার্মেশন) হয়নি। তাই এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিরূপের ঘোরাফেরায় বাধা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “আগের সিন্ডিকেটে যেহেতু একটি নোট লেখা হয়েছিল, তার নিষ্পত্তি করতেই হত। সেই নোট গৃহীত হয়নি। কোনও ছাত্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ বন্ধ করতে আমরা চাইনি।” নিখিল বঙ্গ অধ‍্যক্ষ পরিষদের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি তথা নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষডঙ্গিও বলেন, ‘‘কোনও ছাত্রের উচ্চ শিক্ষার দরজা বন্ধ করা ঠিক নয়।”

শাসক দলের ছাত্রনেতারা অনেকেই অবশ‍্য রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক‍্যাম্পাসে ক‍্যাম্পাসে পড়াশোনা বা গবেষণার নাম করে রাজনীতিই করেন বলে অভিযোগ। অনেক বছর ছাত্র ইউনিয়নের ভোট না হওয়াতেও পুরনো ছাত্রনেতাদের 'দাদাগিরি' বাড়ছে বলে দাবি। অভিরূপ বলেন, "আমার হিউম‍্যান রাইটস নিয়ে পিএইচ ডিতে ভর্তির ইন্টারভিউ হয়ে গিয়েছিল। ফলপ্রকাশের ঠিক আগে আমায় নিষিদ্ধ করা হয়।” কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, অধ‍্যাপক সনাতন চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “সিন্ডিকেটে কাউকে গ্রহণ, বর্জনের সিদ্ধান্তে আমাদের মতামত চাওয়া হয়নি। এই নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে পূর্বতন উপাচার্যকে নিয়ে ওই ছাত্রনেতা এবং তখন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত‍্য বসুর মন্তব‍্যের আমরা নিন্দা করেছিলাম।”

পাশাপাশি, সিন্ডিকেটে স্নাতকোত্তর স্তরে তিন বছরের স্নাতক শিক্ষাক্রম এবং চার বছরের স্নাতক শিক্ষাক্রমে উত্তীর্ণদের জন‍্য যথাক্রমে দুই এবং এক বছরের শিক্ষাক্রম চালুর কথা ঠিক হয় বলে জানান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ। তিনি বলেন, “স্নাতকোত্তরের পঠনপাঠনের ক‍্যালেন্ডারও ঠিক হয়েছে। যে কলেজগুলিতে স্নাতকোত্তরের ক্লাস হয়, তারা নিজেরা পডুয়াদের ভর্তিও করাতে পারবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMCP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy