১১ বছরের নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে ৬৬ বছরের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম বিকাশ রায়। গলসি থানার সাটিনন্দী গ্রামে তাঁর বাড়ি। বুধবার রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পকসো আইনের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতকে বুধবারই বর্ধমানের পকসো আদালতে পেশ করা হয়। বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর ধৃতকে ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন পকসো আদালতের বিচারক বর্ষা বনশল আগরওয়াল। ধৃতের মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বর্ধমানের সিজেএমকে নাবালিকার গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন পকসো আদালতের বিচারক।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ওই নাবালিকা তাঁর মায়ের সঙ্গে গলসি থানার গলিগ্রামে মামার বাড়িতে থাকেন। ঘটনার বিষয়ে নাবালিকার মা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, স্বামীর আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে মামাশ্বশুর বিকাশ তাঁদের আর্থিক সাহায্য করতেন। সেই সুবাদে প্রায়শই তাঁর শ্বশুর বাড়ি গলসি থানার মোগলসীমা গ্রামে অভিযুক্তের যাতায়াত ছিল। অভিযোগ, বাড়িতে এসে প্রায়শই নাবালিকার সঙ্গে অভব্য আচরণ করতেন তিনি। নাবালিকা বিষয়টি তার মাকে বলে। নাবালিকার মা বিষয়টি তাঁর স্বামীকে জানান। কিন্তু, স্বামী বিষয়টিকে আমল দেননি। কিছু দিন আগে অভিযুক্ত নাবালিকার বাড়িতে আসেন। সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। সেই সুযোগে ঘরে ঢুকে নাবালিকার উপর তিনি যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। নাবালিকা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। মা বাড়ি ফিরলে নাবালিকা ঘটনার কথা তাঁকে জানায়। নাবালিকার মা বিষয়টি স্বামী ও দেওরকে জানান। মিথ্যা অভিযোগ বলে তাঁরা উড়িয়ে দেন। নাবালিকার মা বিষয়টি থানায় জানানোর কথা বললে তাঁকে মেয়ে-সহ শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে মহিলা মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার তিনি ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।