Advertisement
E-Paper

সমকামী ৩০ যুবক এইচআইভি আক্রান্ত বর্ধমান শহরে! জেলা জুড়ে ৯০ জনের শরীরে এডস সৃষ্টিকারী ভাইরাস, চাঞ্চল্য

স্বাস্থ্য দফতর তথা জেলা প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে, সমাজমাধ্যমে পরিচয়ের পর অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এই যৌন র‍্যাকেটের জাল গোটা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি তাদের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:২৩
HIV Positive in Purba Bardhaman

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক অসুস্থ যুবকের শারীরিক পরীক্ষার পর পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে প্রায় ৯০ জনের শরীরে মিলল এইচআইভি ভাইরাস! সোমবার এমনই উদ্বেগজনক তথ্য দিল জেলা প্রশাসন। পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, তাদের সাম্প্রতিক পরীক্ষায় বর্ধমান শহরেই অন্তত ৩০ জন যুবকের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিত ও পেশাগত ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং তাঁরা প্রত্যেকেই সমকামী।

সোমবার জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় জানান, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৯০ জন এইচআইভি পজ়িটিভ রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছ। তাঁদের মধ্যে বর্ধমান শহরেরই ৩০ জন বাসিন্দা রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘ওঁরা সকলেই শিক্ষিত এবং আর্থিক ভাবে সচ্ছল। অনিরাপদ যৌন আচরণের কারণে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।” স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, সম্প্রতি বর্ধমানের এক যুবকের দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তাঁর শরীরে এডস সৃষ্টিকারী ভাইরাস পাওয়া যায়। এইচআইভি আক্রান্ত ওই যুবকের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তা নিয়ে খোঁজখবর করা হয়। তার পরেই একের পর এক এইচআইভি পজ়িটিভ ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে।

স্বাস্থ্য দফতর তথা জেলা প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে, সমাজমাধ্যমে পরিচয়ের পর অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এই যৌন র‍্যাকেটের জাল গোটা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি তাদের। পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ‘‘বার বার সচেতনতামূলক প্রচার সত্ত্বেও অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকছেন না। আমরা এইচআইভি পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়েছি। শুধু পুরুষ নন, মহিলা এবং তরুণদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বাড়ছে, যা চিন্তার বিষয়।’’

শিশু চিকিৎসক আশরাফুল মির্জা বলেন, ‘‘বর্তমানে এডসের চিকিৎসায় বাজারে অনেক ওষুধ আছে। যা রোগকে নিয়ন্ত্রণ করে।’’ তাঁর পরামর্শ, ‘‘সুতরাং রোগকে গোপন করে বা পুষে না রেখে পরীক্ষা করে সচেতন হওয়া উচিত। অনিরাপদ যৌন সম্পর্কই এইচআইভি সংক্রমণের প্রধান কারণ। শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে, এটাই উদ্বেগের।”

স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, বর্ধমান এবং কালনা শহর এলাকায় এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বাড়লেও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় তা কমেওছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হচ্ছে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরীক্ষা, কাউন্সেলিং ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপর। স্বাস্থ্য কর্তারা জানিয়েছেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধযোগ্য। নিরাপদ যৌন আচরণ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

HIV Purba Bardhaman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy