Advertisement
E-Paper

মনোনয়ন দেওয়া যাবে তো

হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ শনিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, আরও এক দিন মনোনয়ন জমা নিতে হবে। সেই মতো আজ, সোমবার বেলা ১১টা থেকে পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির মনোনয়ন জমা পড়বে ব্লক দফতরে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ০১:২০

সুযোগ একটা পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু, মনোনয়নের দিন বাড়ানোর জন্য যত ছোটাছুটি কিংবা তর্জন-গর্জন, তার ছিটেফোঁটাও আজ, সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় দেখা যাবে কি—এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের সিপিএম এবং বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে।

হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ শনিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, আরও এক দিন মনোনয়ন জমা নিতে হবে। সেই মতো আজ, সোমবার বেলা ১১টা থেকে পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির মনোনয়ন জমা পড়বে ব্লক দফতরে। আর জেলা পরিষদের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেবেন মহকুমাশাসকের অফিসে। বেলা তিনটে পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। গত ১ এপ্রিল মনোনয়ন পর্বের শুরুর দিন থেকেই বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে শাসকদল বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের মারধর, হেনস্থাও করা হয়েছে বহু জায়গায়। পুলিশের সামনেই এ সব হয়েছে বলে বিরোধীদের দাবি।

এ বার অবশ্য প্রশাসনের দাবি, মনোনয়ন কেন্দ্রের সামনে কোনও রকম গোলমাল করতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন ব্লক অফিস এবং বর্ধমানের দুই এসডিও অফিসের সামনে ব্যারিকেড করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকবে। এ ছাড়াও মনোনয়ন কেন্দ্রকে ঘিরে তিনটে করে পুলিশের গাড়ি টহল দেবে বলে জানা গিয়েছে।

এ সব তো ঠিক আছে। কিন্তু, বিরোধী দলগুলি আজ মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে কি?

রবিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী শিবেরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এ সব নিয়ে খুব তাপ-উত্তাপ নেই। বিজেপি নেতারা দু-একটি ব্লকে ফোন করে ‘শক্তি অনুযায়ী’ মনোনয়ন দিতে যাওয়ার কথা বলছে স্থানীয় নেতৃত্বকে। কিন্তু, সিপিএম নেতাদের মধ্যে সেই নড়াচড়াও দেখা গেল না। দলের জেলাস্তরের এক নেতা বলেন, “মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দল তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু হায়দরাবাদে পার্টি কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে এক তরুণ নেতা জায়গা পেয়েছেন। এখন কে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। তবে জেলা পরিষদের প্রার্থী দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব।”

এই অবস্থা কেন? কয়েক জন পার্টি সদস্য বললেন, “প্রথম দফায় মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে মার খাওয়ার পরেই কর্মী-সমর্থকদের একাংশ বিজেপিমুখী হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মার খাওয়ানোর ঝুঁকি দল নেবে কি?” গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে ৮৬৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৮৫টি এবং জেলা পরিষদে ১৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম। একই সময়ের মধ্যে বিজেপি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৮৯৭টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ২০১টি এবং জেলা পরিষদে ৪২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সন্ত্রাস-মুক্ত পরিবেশ থাকলে আমরাও মনোনয়ন জমা দিতে যাব।”

বিজেপির দাবি, প্রার্থী হওয়া আটকানোর জন্য আউশগ্রাম-সহ বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের বাইক বাহিনীর সন্ত্রাস শুরু হয়ে গিয়েছে। ছোড়া কলোনির এক বিজেপি সমর্থককে রবিবার দুপুরে মারধর করা হয়েছে। ওই এলাকার জেলা পরিষদের প্রার্থী বিকাশ ভক্ত গ্রাম ছাড়া রয়েছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূলের লোকেরা ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।” তৃণমূলের হুমকিতে প্রার্থিপদ তুলে নিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভাতারের মাহাতার ১৬ জন বিজেপি প্রার্থী। মহকুমাশাসকের (বর্ধমান-সদর) কাছে বিজেপি-র অভিযোগ, রায়-রামচন্দনপুরের তৃণমূল নেতা নিখিল মাঝির নেতৃত্বে তাদের প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ফর্মে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই নেতা।

বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতি (বর্ধমান সদর)) সন্দীপ নন্দীর অবশ্য দাবি, “জেলা পরিষদের সব আসনে প্রার্থী দেব। একই সঙ্গে ব্লক স্তরে শক্তি অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দিতে বলা হয়েছে।” কাটোয়া মহকুমার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির আসনে বিরোধী সংখ্যা আপাতত শূন্য। তার পরেও বিজেপি-র সাংগঠনিক সভাপতি (বর্ধমান পূর্ব) কৃষ্ণ ঘোষ সেখানে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, সোমবার মনোনয়ন নিয়ে কিঞ্চিৎ কৌশল পাল্টানো হয়েছে। দলের কয়েক জন নেতার কথায়, “হাইকোর্টের রায়ের পরে উন্নয়ন ব্লক দফতরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে না, তবে গ্রামে ঘুরবে!” যদিও তৃণমূলের জেলার অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পরিষদের প্রার্থী উত্তম সেনগুপ্ত অভয় দিচ্ছেন, “বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে এলে আমরাই তাঁদের বুক দিয়ে আগলে রাখব।”

West Bengal Panchayat Election 2018 Oppositions nomination
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy