Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

মনোনয়ন জমা, তবু অস্বস্তিতে বিপ্রেন্দু

নিজস্ব সংবাদদাতা
দুর্গাপুর ২২ মার্চ ২০১৬ ০১:০২
বিশ্বনাথ ও বিপ্রেন্দু।

বিশ্বনাথ ও বিপ্রেন্দু।

টানাপড়েন চলছিলই। দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী না কি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’য়ে বাম ও কংগ্রেস, দু’দলেরই প্রার্থী, সে ব্যাপারে ধোঁয়াশা কাটল না মনোনয়ন জমা শেষ হওয়ার পরেও।

সোমবার শেষ দিনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। মনোনয়ন দাখিল করলেন প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক বিপ্রেন্দু চক্রবর্তীও। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় তাঁর প্রার্থিপদ বহাল থাকবে কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রথমে এই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে প্রাক্তন বিধায়ক বিপ্রেন্দু চক্রবর্তীর নাম ঘোষণা করেছিল বামেরা। কিন্তু পরে জানানো হয়, সেখানে প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়া নিয়ে অসন্তোষ ছিল সিপিএমের একাংশের। বিপ্রেন্দুবাবুর নামে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছিলেন দলের কর্মীরা। সিপিএমের দাবি, বিপ্রেন্দুবাবু প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মেয়র পারিষদ। দুর্গাপুরের নানা উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। তাই তিনি প্রার্থী হলে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে খানিক সুবিধা পাওয়া যাবে। দলের জেলা কমিটির বৈঠকেও দুর্গাপুরের সিপিএম নেতারা এই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে জোর সওয়াল করেন।

Advertisement


মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পথে।



কিন্তু ১৫ মার্চ কংগ্রেসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই কেন্দ্রে জোটের তরফে লড়বে তারাই। প্রার্থী হিসেবে আইএনটিইউসি নেতা স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়। মূলত পরিবহণ কর্মী সংগঠনের নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত। তাঁকে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে দলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের আপত্তি ছিল বলে সিপিএম সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে শনিবার দুপুরে বিপ্রেন্দুবাবু জানান, তাঁকে দলের জেলা কমিটি প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সে দিনই বিকেলে ওই আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিশ্বনাথবাবুর নাম ঘোষণা করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। শহরের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বনাথবাবু যোগ দেন কংগ্রেসে। এর পরেই বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই না কি কংগ্রেস প্রার্থী বিশ্বনাথবাবুকে বামেদের সমর্থন, সে নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টালবাহানা শুরু হয়। সিপিএমের একটি অংশের দাবি, দলের একটি পক্ষ মনে করছিল, জোটের প্রার্থী হিসেবে বিশ্বনাথবাবু তৃণমূলের অপূর্ববাবুকে বেশি বেগ দিতে পারবেন। আবার একটি অংশ এই কেন্দ্রে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’য়ের পক্ষে সওয়াল করে।

সিপিএমের একটি সূত্রের খবর, সদ্য তৃণমূল ছেড়ে আসা বিশ্বনাথবাবু কোনও কারণে যদি শেষ মুহূর্তে প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে, সেক্ষেত্রে যাতে বিপদে পড়তে না হয় সে জন্যই বিপ্রেন্দুবাবু মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পেরোনোর পরে চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে সিপিএম নেতারা জানান। বিপ্রেন্দুবাবু বলেন, ‘‘দলের তরফে নির্দেশ পেয়েই আমি মনোনয়ন জমা দিয়েছি।’’ কংগ্রেসের জেলা শিল্পাঞ্চল সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘প্রদেশ নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আমাদের প্রার্থীই এই কেন্দ্রে লড়াই করবেন। সিপিএম প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই।’’

তবে বিপ্রেন্দুবাবুর মনোনয়ন বহাল থাকবে কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মহকুমা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের তরফে বিপ্রেন্দুবাবুকে পাঠানো চিঠিতে কাটাকুটি ছিল। তা ছাড়া বিকেল ৩টের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনি জমা দেন তার প্রায় ১০ মিনিট পরে। সে সব জানিয়ে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। মহকুমা নির্বাচনী আধিকারিক তথা মহকুমাশাসক (দুর্গাপুর) শঙ্খ সাঁতরা বলেন, ‘‘এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। সব কিছু কমিশনকে জানানো হয়েছে।’’

সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিপ্রেন্দুবাবু দলের তরফে যে চিঠি জমা দেন সেখানে অন্য প্রার্থীর নাম ছাপানো ছিল। তা পেন দিয়ে কেটে বিপ্রেন্দুবাবুর নাম লেখা হয়েছে। দলের জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক দাবি করেন, কংগ্রেসের সঙ্গে প্রার্থী নিয়ে টানাপড়েনে রাজ্য নেতৃত্বের থেকে বিপ্রেন্দুবাবুর নামে চিঠি আনতে দেরি হওয়ায় এই ব্যবস্থা নিতে হয়। অচিন্ত্যবাবু বলেন, ‘‘উপস্থিত নির্বাচনী আধিকারিকদের সব জানিয়ে যা করার করা হয়েছে।’’ বিপ্রেন্দুবাবু বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট সময়েই গিয়েছিলাম। যখন জমা দিতে বলা হয়েছে, দিয়েছি। তার মধ্যে সময় পেরিয়ে গেলে সেই দায় আমাদের হবে কেন? বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েওছি।’’

—নিজস্ব চিত্র।

আরও পড়ুন

Advertisement