E-Paper

সংখ্যালঘু ভোট কাটাকুটিতে জয়ের আশা দেখছে বিজেপি

একদা সিপিএমের গড় কেতুগ্রাম দেড় দশক আগে তৃণমূলের গড়ে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো সংগঠন বিরোধী দলগুলির নেই।

প্রণব দেবনাথ

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

সংখ্যালঘু ভোট কাটাকুটির অঙ্কে জয়ের আশা দেখছে বিজেপি। কেতুগ্রামে তৃণমূল থেকে শুরু করে কংগ্রেস, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ও আইএসএফ প্রার্থী প্রত্যেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাই ভোট কাটাকুটি এক প্রকার নিশ্চিত। এই আবহে গেরুয়া শিবির আশার আলো দেখছে। বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে এসআইআরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া। ঘটনাচক্রে যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

এই ত্রিফলায় তৃণমূলকে ঘায়েল করে জয়ের মুখ দেখার আশায় কার্যত নাওয়া-খাওয়া ভুলে ছুটে বেড়াচ্ছেন কেতুগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ ওরফে মথুরা। বসে নেই তিন বারের বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী শেখ সাহানেওয়াজও। তাঁর দাবি, প্রতিটি গ্রামে প্রচারে গেলেই সাধারণ মানুষের ঢল নামছে। এ ছাড়াও এসআইআরের ভোগান্তি মানুষের কোমর ভেঙে গিয়েছে। এ বার জয়ের ব্যবধান বাড়বেই।

একদা সিপিএমের গড় কেতুগ্রাম দেড় দশক আগে তৃণমূলের গড়ে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো সংগঠন বিরোধী দলগুলির নেই। কিন্তু গত লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের ফলাফল বলছে, প্রধান বিরোধী শক্তি হিসাবে উঠে এসেছে বিজেপি। অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে সিপিএম। কেতুগ্রাম বিধানসভা এলাকাটি বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। ফলে কেতুগ্রাম ১ ও ২ ব্লক ছাড়াও কাটোয়া ১ ব্লকের শ্রীখণ্ড ও কোশিগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা রয়েছে এই বিধানসভায়। মোট ২৯৪টি বুথ রয়েছে। গত বিধানসভা ভোটের নিরিখে এর সিংহ ভাগ বুথই তৃণমূলের দখলে। তবে লোকসভা নির্বাচনে কেতুগ্রাম ২ ব্লকে বেশির ভাগ বুথে বিজেপি এগিয়ে। কিন্তু, কেতুগ্রাম ১ ব্লক এলাকায় আবার বিজেপি পিছিয়ে। এসআইআরের কারণে কেতুগ্রাম বিধানসভায় মোট ৩৯ হাজার ৭৭৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই কেতুগ্রাম ১ ব্লকের সংখ্যালঘু বাসিন্দা।

বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হওয়ায় আইএসএফ প্রার্থী ক্বারি জাকির গাইন ময়দানে লড়তে নেমেছেন। দিন কয়েক আগেই কেতুগ্রামে বড়সড় সভা করে গিয়েছন নওসাদ সিদ্দিকী। সেখানে ভিড়ও ভালোই হয়েছে। প্রতিদিনই সিপিএমের নেতা-কর্মীরা আইএসএফের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কেতুগ্রামের প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনে মানুষ অতিষ্ঠ। বিজেপিকেও মানুষ চান না। প্রচারে আমরা ভাল সাড়া পাচ্ছি।’’ কেতুগ্রামের বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষের দাবি, “মানুষ তৃণমূল থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন। অনেক সংখ্যালঘু মানুষও আমাদের ভোট দেবেন। আমরাই জিতব।” যদিও তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক শেখ সাহানেওয়াজ বলেন, “আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নামই জানেননা মানুষ। বিজেপি ফন্দিফিকির করে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এসআইআর করে নাম বাদ দিলেও কোনও কাজ হবে না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ketugram minority vote BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy