ভোটে জেতার পরে শ্রমিক সংগঠন সিটুর অফিস দখল করার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। দেওয়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ছবি সাঁটিয়ে লিখে দেওয়া হয় ‘আইএনটিটিইউসি অফিস’। এক বছর পরে সিটু নেতাদের সেই অফিস ফিরিয়ে দিলেন আসানসোলের তৃণমূল নেতা তথা শহরের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি।
গত বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পরে রাজ্যের নানা প্রান্তে বিরোধীদের অফিসে হামলা করার অভিযোগ ওঠে শাসক দলের একাংশের বিরুদ্ধে। শান্তিরক্ষার বার্তা দেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তার পরেই কালনায় সিপিএমের একটি ভাঙচুর হওয়া অফিস মেরামত করে দিতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের কালনা ২ ব্লক সভাপতি প্রণব রায়। বামেরা সে টাকা নেননি।
প্রায় একই সময়ে দখল হওয়া সিটু অফিস অবশ্য সাফসুতরো করেই শনিবার ফিরিয়ে দেন জিতেন্দ্রবাবু। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। কিছু কর্মী হঠকারিতা করেছিলেন। আমরা তা অনুমোদন করিনি। তাই ওঁদের অফিস ফেরত দিলাম।’’
১৯৯০-তে আসানসোল সিটি বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া একটি ভাড়া-ঘরে অফিস চালু করে সিটুর পরিবহণ কর্মী সংগঠন। সিটুর অভিযোগ, গত বছর ভোটের ফল বেরনোর পরদিন (২০ মে) আইএনটিটিইউসি নেতা রাজু অহলুওয়ালিয়ার নেতৃত্বে হামলা হয়। সিটু নেতা-কর্মীদের নিগ্রহ ও ভাঙচুর চালানোর পরে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। কিছু দিন পরে মেয়রের কাছে অফিসটি ফেরানোর জন্য আর্জি জানান সিপিএম নেতৃত্ব।
সম্প্রতি তৃণমূলের এক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। তার পরেই রাজুবাবুকে ডেকে পাঠিয়ে অফিসটির চাবি ফেরত নেন মেয়র। ভাঙচুর হওয়া জিনিস সরিয়ে অফিসটি সাফ করার পরে শনিবার পুরসভায় নিজের চেম্বারে ডেকে চাবি তুলে দেন সিটু নেতাদের হাতে। সিটু নেতা হেমন্ত সরকার বলেন, ‘‘মেয়রের সৌজন্যে আমরা খুশি।’’
রাজনৈতিক সৌজন্যের এই আবহ বেশি দেখা যাচ্ছে না পশ্চিম বর্ধমানে। জেলার নানা প্রান্তে শাসক-বিরোধী ঠোকাঠুকি লাগছে প্রায়দিনই। চার দিন আগে দুর্গাপুরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে
অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ করে বিজেপি। শুক্রবার রাতে আবার কুলটিতে তৃণমূলের একটি অফিসে হামলায় অভিযুক্ত সিপিএম ও বিজেপি। তারই মাঝে শনিবার আসানসোলের মেয়রের এই ভূমিকায় সাধুবাদ দিচ্ছেন সিপিএম নেতারা।’