E-Paper

প্রশিক্ষণে মহিলাদের স্বনির্ভরতার পথ ডিএসপি-র

ডিএসপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্থার সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে ওই মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ ধরনের আঠার ব্যবহার শেখানো হচ্ছে, যা মূলত পাইপের ছিদ্র, ফাটল মেরামত, প্লাস্টিক, কাঠের সামগ্রী জোড়া লাগানো-সহ নানা কাজে লাগে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬
মহিলাদের প্রশিক্ষণ। দুর্গাপুরে।

মহিলাদের প্রশিক্ষণ। দুর্গাপুরে। — নিজস্ব চিত্র।

দুঃস্থ মহিলাদের হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের রোজগারের ব্যবস্থা করছেন দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট (ডিএসপি) কর্তৃপক্ষ। দুর্গাপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় পারুলিয়া, আরতি, আমরাই ইত্যাদি এলাকার দুঃস্থ মহিলারা ইতিমধ্যে স্বনির্ভরতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন বলে ডিএসপি সূত্রে জানা গিয়েছে।

ডিএসপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্থার সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে ওই মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ ধরনের আঠার ব্যবহার শেখানো হচ্ছে, যা মূলত পাইপের ছিদ্র, ফাটল মেরামত, প্লাস্টিক, কাঠের সামগ্রী জোড়া লাগানো-সহ নানা কাজে লাগে। এই আঠা ব্যবহারের কিছু ক্ষণ পরে শক্ত হয়ে ধাতু, প্লাস্টিক বা পাথরের মতো পদার্থের সঙ্গে দৃঢ় ভাবে আটকে যায়। তা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পকর্ম করা যায়। ঘর সাজানোর সামগ্রী, গয়না, ছোট মূর্তি, ক্যানভাস, পুরনো বোতলের উপরে নকশা তৈরি করে তা বিক্রি করা যায়। নরম অবস্থায় শিল্পকর্ম করে তা শুকিয়ে গেলে তার উপরে রং ও বার্নিশ করে শিল্পকর্মটি আকর্ষণীয় করে তোলা হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে মানস সরখেল জানান, প্রথমে পারুলিয়ার রুইদাসপাড়ার মহিলাদের তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁরা কাজ শেখার পরে, ডিএসপি-র তরফে তাঁদের চার হাজার সরস্বতী ও গণেশ মূর্তির বরাত দেওয়া হয়। তাঁরা তা পূরণ করেন। মানস বলেন, “খবর পেয়ে আমরাই, আরতি ইত্যাদি জায়গার আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলারাও আসেন। কাজ করতে করতে দেখা যায়, আর একটু উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। ডিএসপি কর্তৃপক্ষ সে ব্যবস্থাও করেছেন।’’

পারুলিয়া নবরুইদাস পাড়ার কবিতা রুইদাস জানান, এক দিনে ৫-১০টি মূর্তি তৈরি করে ফেলা সম্ভব। খরচ পড়ে গড়ে ১০০-১৫০ টাকা। এ ছাড়া, বোতল, প্লাইউড, ক্যানভ্যাস, ঘর সাজানোর সামগ্রী, ফুলদানি, কলমদানি-সহ নানা শিল্পকর্ম করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘ডিএসপি কর্তৃপক্ষ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সৌজন্যে হাতের কাজ করে রোজগার করতে পারছি। স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছি।’’ ওই পাড়ারই পার্বতী রুইদাস বলেন, ‘‘আগে তিন মাসের প্রশিক্ষণ হয়েছে। এখন ফের তিন মাসের উন্নত প্রশিক্ষণ চলছে। কাজের মান ক্রমে ভাল হচ্ছে।” আরতি গ্রামের হাসমা খাতুনের কথায়, “আমি পরে খবর পাই। তবে মাস দুয়েক প্রশিক্ষণ নিয়ে নানা দেবদেবীর মূর্তি, ঘর সাজানোর সামগ্রী বানাতে পারছি। স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।”

মানস বলেন, “খবর ছড়িয়ে পড়ায় উৎসাহী মহিলাদের ভিড় বাড়ছে। ডিএসপি-র সহযোগিতায় ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ইচ্ছে আছে।” ডিএসপি-র সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, “আমরা সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে নানা ভাবে দুর্গাপুর শহর ও লাগোয়া এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যোগ দিই। তারই অঙ্গ হিসাবে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Durgapur Durgapur Steel Plant

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy