সাদা রঙের গাড়িতে পুলিশের স্টিকার সাঁটা। দিনরাত গাড়িটি যাতায়াত করে পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল বাজারে। এলাকার প্রায় সকলেই গাড়িটিকে দেখেছেন। কিন্তু পুলিশের গাড়ি ভেবে সন্দেহ হয়নি কারও। অনেকেই ভেবেছিলেন, গাড়িটি হয়তো শক্তিগড় থানার পুলিশের। কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
ওই গাড়ির নম্বর ডব্লিউবি ৪১পি ১৩৫০। স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, গাড়ির মালিকের নাম সুমনা ঘোষ। তাঁর বাড়ি শক্তিগড় থানার অন্তর্গত বড়শুলের বাজেশালপুরে। তবে সুমনা কোনও পুলিশ নন। তাঁর স্বামী তন্ময় এক জন পুলিশ আধিকারিক। বীরভূমের সিউড়ির ট্রাফিক ইনস্পেক্টর তিনি। যদিও তিনি না-হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্ত্রী পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়িতে ঘোরাফেরা করেন!
স্থানীয়দের অভিযোগ, কী ভাবে পুলিশকর্মী না-হয়েও ওই মহিলা গাড়িতে পুলিশ লেখা স্টিকার সাঁটিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? যদিও তন্ময়ের দাবি, তিনি গাড়িটি ব্যবহার করেন। সেই বিষয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়েরা। তাঁদের দাবি, ‘‘কর্মসূত্রে সিউড়িতে থাকা এক পুলিশ আধিকারিক কী ভাবে বড়শুলে ঘোরাফেরা করছেন?’’ পুলিশের স্টিকার লাগানো ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে এ ভাবে জনবহুল এলাকায় ঘোরাফেরা করা কি আইনসিদ্ধ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দা অশোক বিশ্বাসের কথায়, ‘‘ওই গাড়িতে চড়তে দেখি পুলিশ অফিসার তন্ময় ঘোষের স্ত্রী সুমনাকে। তিনি গাড়িতে চড়ে বাজার করেন। বাড়ির কাজকর্ম করেন।’’ বিষয়টি ‘বেআইনি’ বলে মানছে জেলাপুলিশ। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, এই ভাবে পুলিশের কোনও অফিসার পুলিশ লেখা স্টিকার ব্যবহার করতে পারেন না। তাঁর কথায়, ‘‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। তবে যাতে তাড়াতাড়ি এই স্টিকার খুলে দেওয়া হয় তার ব্যবস্থা করা হবে।’’