Advertisement
E-Paper

রবির সৃষ্টিতেই কবিকে স্মরণ

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির হৃদয় জুড়ে। কেউ রোজকার জীবন যাপনে, কেউ সুখ-দুঃখের মুহূর্তে আশ্রয় নেন রবীন্দ্রনাথে। তবে কবিগুরুর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করাটা একরকম অভ্যেস হয়ে গিয়েছে বাঙালির।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০১৭ ০০:৪৮
কবিপ্রণাম: বর্ধমান ও কাটোয়ায়। নিজস্ব চিত্র

কবিপ্রণাম: বর্ধমান ও কাটোয়ায়। নিজস্ব চিত্র

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির হৃদয় জুড়ে।

কেউ রোজকার জীবন যাপনে, কেউ সুখ-দুঃখের মুহূর্তে আশ্রয় নেন রবীন্দ্রনাথে। তবে কবিগুরুর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করাটা একরকম অভ্যেস হয়ে গিয়েছে বাঙালির।

মঙ্গলবার কবির ১৫৭তম জন্মদিনে জেলা জুড়ে নানা উৎসবে মাতে খুদে থেকে বড়রা। বর্ধমান শহরের টাউন হল, কার্জন গেট চত্বরে একাধিক সংস্থার তরফে অনুষ্ঠান করা হয়। বড়শূল নিম্ন বুনিয়াদী স্কুলে কবিগুরুর পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন করেন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত ও স্বপন দেবনাথ। প্রভাতফেরিতে সামিল হন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকার বি়শিষ্ট ব্যক্তিরা। তপনবাবু বলেন, ‘‘এ যেন শান্তিনিকেতন। শিক্ষকেরা সচেষ্ট হলে যে ভাল কিছু করা যায় এই স্কুল তার প্রমাণ।’’ স্বপনবাবুও বলেন, ‘‘শিশুদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা বিকশিত হোক।’’

গলসি উচ্চ বিদ্যালয়েও সাড়ম্বরে পালিত হয় রবীন্দ্র জয়ন্তী। গিটার বাজিয়ে নজর কাড়েন অনীশা মিস্ত্রি। স্কুলের পড়ুয়ারাও আবৃত্তি, গান-নাচে মাতিয়ে তোলেন উপস্থিত লোকজনকে। গলসি উদয়ন সঙ্ঘের উদ্যোগে শহর গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত হয় কবি প্রণাম। রবি-জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন বিদিশা মিস্ত্রী। যোগ দেন শিক্ষক, পড়ুয়ারা। গলসি নিবেদিতা সঙ্গীত বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও তাতে যোগ দেন।

কালনা পুরসভার তরফে শহরের ২৫টি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর কর্মীদের নিয়ে মিছিল বের হয়। ছিলেন পুরপ্রধান দেবপ্রসাদ বাগও। সন্ধ্যায় পুরসভা এবং মহকুমা তথ্য সংস্কৃতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পুরশ্রী মঞ্চে হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাচ, গান, আবৃত্তি-সহ রবীন্দ্রনাথের জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পল্লিবাসী ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রবীন্দ্রমূর্তি ঘিরে নানা অনুষ্ঠান হয়। অনেকে বাড়িতেও স্মরণ করেন কবিগুরুকে। যেমন, গৌরেনচন্দ্র সোঁ এবং তাঁর স্ত্রী অন্তরা সোঁ প্রতিবারের মতো স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে গীতিআলেখ্য, কবিতার আসর বসান। পূর্বস্থলীর নসরতপুর এবং জাহান্নগর এলাকায় আবার সারা সকাল হুড খোলা গাড়িতে নানা অনুষ্ঠান করে শহর ঘুরে পথচলতি মানুষকে আনন্দ দেন কয়েকজন।

কাটোয়া রবীন্দ্র পরিষদে মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে মাল্যদান করেন মহকুমাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জানানো হয়। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক আজিজুর রহমান জানান, সন্ধ্যায় গান, আবৃত্তি ও নৃত্যগীতি আলেখ্য পরিবেশিত হয়। ঘোষহাট টালিখোলায় পুরপ্রধান অমর রাম কবিগুরুর মূর্তি মালা দান করেন। বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া রবীন্দ্রমূর্তিতে ঘিরেও নানা অনুষ্ঠান হয়। পানুহাট আমবাগানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওরিয়েন্টাল যোগ সেন্টার ও স্বরবর্ণ আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র। পানুহাট পশ্চিমপাড়ায় একতা সঙ্ঘের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসর বসে। রেলওয়ে ময়দানে এ দিনটা ধুমধাম করে পালন করে কাটোয়া জাগরী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। যোগ দেন শ’খানেক শিল্পী। কাশীরামদাস বিদ্যায়তনের মতো নানা স্কুলের পালিত হয় অনুষ্ঠান।

আউশগ্রাম, গুসকরা, মঙ্গলকোটের বিভিন্ন জায়গায় নানা ভাবে পালিত হয় রবীন্দ্র জয়ন্তী। মূল অনুষ্ঠানটি হয় আউশগ্রাম ১ ব্লকের উদ্যোগে। রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন বিডিও চিত্তজিৎ বসু। ভেদিয়ার বাগবাটি জাগরণী সঙ্ঘের উদ্যোগে প্রভাত ফেরি হয়। মঙ্গলকোটের মিলন পাঠাগার এবং গুসকরা শহর পাঠাগারেও এদিনটি স্বাড়ম্বরে পালিত হয়। ভাতার বাজারে রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয় এ দিন।

Rabindra Jayanti Bardhaman Town
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy