Advertisement
E-Paper

দামোদরের বালি চুরি করছে হুগলির ‘মাফিয়ারা’, আতঙ্কে পূর্ব বর্ধমানে কোরা ও শিয়ালি গ্রাম

কোরা গ্রাম একেবারে হুগলি সীমান্তে। ঠিক তার পাশেই শিয়ালি গ্রাম। এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই হুগলির বালি মাফিয়ারা নৌকো নিয়ে দামোদর ধরে চলে আসছে।

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:০৫

—নিজস্ব চিত্র।

পুজোর জন্য বন্ধ অফিস-কাছারি। টহলদারি নেই। সেই সুযোগে দামোদর থেকে লুট হয়ে যাচ্ছে বালি। ‘মাফিয়া’দের এই দৌরাত্ম্যে আশঙ্কিত পূর্ব বর্ধমানের কোরা ও শিয়ালি গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, জলদস্যুদের কায়দায় হুগলির বালি মাফিয়ারা নৌকোয় করে পূর্ব বর্ধমানে ঢোকে। দিনে দুপুরেই তারা দামোদর থেকে বালি লুট করে বালি ভর্তি নৌকো নিয়ে আবার ফিরে যায় হুগলিতে।

কোরা গ্রাম একেবারে হুগলি সীমান্তে। ঠিক তার পাশেই শিয়ালি গ্রাম। এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই হুগলির বালি মাফিয়ারা নৌকো নিয়ে দামোদর ধরে চলে আসছে। প্রতি দিন কমবেশি ডজন খানেক নৌকো ঢোকে গ্রামে। এক দল আসে বেলায় সারা দিন ধরে বালি বোঝাই করে তারা ফিরে যায় সন্ধ্যায় আগে। সন্ধ্যার পর আবার এক দল আসে। তারা সারা রাত ধরে বালি তুলে ভোরের আলো ফোটার আগেই ফিরে যায়। গ্রামবাসীদের দাবি, এই বালি মাফিয়ার হুগলির খুশিগঞ্জ, চৈতন্যবাটি, নিশ্চিন্তপুর, ভাঙামোড়া, কালিকাপুর ও কুমরুলের দিক থেকে আসে। পুজোয় তাদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে গিয়েছিল।

শিয়ালি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রমনীকান্ত পান বলেন, ‘‘আমাদের শিয়ালি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গায়েই রয়েছে দামোদর নদ। স্কুলের পাশে বসতিও রয়েছে। তা জেনেও হুগলির বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রতিদিন দামোদরের ওই জায়গায় নৌকো নিয়ে জড়ো হয়। সেখান থেকে নৌকো ভর্তি বালি তুলে নিয়ে তারা হুগলিতে চলে যায়। ওই সব বালি কারবারিদের বাধা দেওয়া হলেও তারা কিছুই মানছে না। অথচ এমন ভাবে বালি তোলার জন্য প্রাথমিক স্কুল ও বসতির বিপদ বাড়ছে।’’ রমনিকান্ত এ-ও বলেন, ‘‘প্রশাসনের লোকজনকে আগেই এই ঘটনার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমরা চাই, হুগলির ওই সব বালি কারবারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিক।’’

প্রতি বছরের মত এ বছরও প্রশাসনের তরফে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত দামোদর থেকে বালি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কী ভাবে দামোদরের বালি লুট হচ্ছে, সেই প্রশ্নই উঠছে। এ বিষয়ে জামালপুরের বিধায়ক অলক মাঝি বলেন, ‘‘ঘটনার কথা আমারও কানে এসেছে। আমিও এই ঘটনার কথা জেনে স্তম্ভিতই হয়েছি। দামোদর থেকে বালি লুট বন্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন। তার পরেও হুগলি থেকে এসে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ঢুকে আমার বিধানসভা এলাকার দামোদর থেকে বালি লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এই বালি লুট বন্ধের জন্য আমি প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলে জানাব।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy