Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

দুর্গাপুরে চক্ষুদানের অঙ্গীকার সাত বন্দির

জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দিদের মধ্যে মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রথম প্রস্তাব দেয় ‘দুর্গাপুর ব্লাইন্ড রিলিফ সোসাইটি’।

সুব্রত সীট
দুর্গাপুর ০১ মে ২০১৮ ১২:২৮
Save
Something isn't right! Please refresh.
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

Popup Close

অপরাধের মামলায় নাম জড়িয়ে বন্দি হয়েছেন তাঁরা। তবে অন্যের চোখে আলো ফেরাতে এগিয়ে এসেছেন প্রস্তাব পেয়েই। চক্ষুদানের অঙ্গীকার করলেন দুর্গাপুর জেলের সাত বন্দি। মহকুমাশাসক (দুর্গাপুর) শঙ্খ সাঁতরা বলেন, ‘‘এটা খুবই ইতিবাচক উদ্যোগ।’’

জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দিদের মধ্যে মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রথম প্রস্তাব দেয় ‘দুর্গাপুর ব্লাইন্ড রিলিফ সোসাইটি’। মহকুমাশাসকের অনুমতি নিয়ে জেল কর্তৃপক্ষ তাতে সহযোগিতা করেন। জেলর দীপাঞ্জন শীল জানান, বন্দিদের মধ্যে চক্ষুদানের প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা হয়। একটি গোলমালের মামলায় অভিযুক্ত ডিএসপি টাউনশিপের কণিষ্ক সাউথ এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত অধিকারী নানা সমাজসেবামূলক কাজকর্ম করেন। দীপাঞ্জনবাবু বলেন, ‘‘সুশান্তবাবুকে চক্ষুদানের মতো ভাল কাজে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাই। শুধু নিজে এলে হবে না, অন্যদের আনা যায় কি না সেটাও দেখতে বলি।’’

জেল সূত্রে জানা যায়, সুশান্তবাবুর তখন জেলে থাকার মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছিল। তড়িঘড়ি বন্দিদের চক্ষুদানের গুরুত্ব বোঝান তিনি। তাঁর ডাকে সাড়া দেন আরও ছ’জন— বিরুডিহার খোকন পাল, রাজবাঁধের কাঞ্চন মণ্ডল, গোপালমাঠের সুজারা প্লটের তাপস মুখোপাধ্যায়, রাঁচী কলোনির রাজু রায়, ডিএসপি টাউনশিপের তিলক রোডের সৌমেন চট্টোপাধ্যায় ও মেনগেটের আর কে পল্লির রোহিত মুর্মু। তাঁরা নানা মামলায় বিচারাধীন বন্দি। সুশান্তবাবু ও খোকনবাবু পঞ্চাশোর্ধ। বাকিদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। ২৮ এপ্রিল সাত জনই চক্ষুদানের অঙ্গীকারপত্রে সই করেন। ২৯ এপ্রিল জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন সুশান্তবাবু। তিনি বলেন, ‘‘আগেই মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছি। চক্ষুদানের প্রস্তাব পেয়েও দেরি করিনি।’’

Advertisement

‘দুর্গাপুর ব্লাইন্ড রিলিফ সোসাইটি’র তরফে কাজল রায়ের দাবি, কোনও সংশোধনাগারে বন্দিদের মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকারের এমন উদ্যোগ আগে আর দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘‘লক্ষ-লক্ষ দৃষ্টিহীন মানুষ রয়েছেন। আমরা চাই, সমাজের সব স্তরের মানুষ চক্ষুদানের অঙ্গীকার করতে এ ভাবেই এগিয়ে আসুন।’’ আন্তর্জাতিক চক্ষু ব্যাঙ্কের কলকাতা শাখার সাধারণ সম্পাদক মলয় রায় বলেন, ‘‘খুব ভাল খবর। দুর্গাপুরে বন্দিরা যে ভাবে এগিয়ে এসেছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’’ আজ, মঙ্গলবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বন্দিদের এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement