Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

মাঠে নেমেই অপূর্বকে তোপ দাগলেন বিশ্বনাথ

নিজস্ব সংবাদদাতা
দুর্গাপুর ২১ মার্চ ২০১৬ ০৩:০৯
 বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। নিজস্ব চিত্র।

বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। নিজস্ব চিত্র।

নতুন দলে যোগ দিয়েই পুরনো সহযোদ্ধার নাম নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের কংগ্রেস প্রার্থী। অভিযোগ করলেন, ‘‘এখন যাঁরা নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁরা অহঙ্কারী।’’ দিলেন দলবদলের ব্যাখ্যাও, ‘‘আমাকে বহু বার নানা ভাবে চূড়ান্ত অপমান করা হয়েছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’’

দুর্গাপুরের দেড় দশকের পুরনো তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বনাথ পাড়িয়াল রবিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। তার পরেই তোপ দাগলেন দলের নেতার বিরুদ্ধে। এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্বনাথবাবু তৃণমূল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরাসরি দুর্গাপুরের মেয়র তথা দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব মুখোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ওঁর অহঙ্কার আমাকে দল ছাড়তে বাধ্য করেছে। মানুষের কাছে প্রচারে গিয়ে তা তুলে ধরব।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে কুৎসা করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’

যা শুনে অপূর্ববাবু বলেন, ‘‘আমি একটি দলের প্রার্থী। কে কোথায় কী অভিযোগ করছেন, দলের অনুমতি না নিয়ে সে ব্যাপারে আমি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে পারি না।’’ তৃণমূলের দুর্গাপুর জেলা শিল্পাঞ্চল সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘বিশ্বনাথের বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে বিশদে জানানো হয়েছে। দলবিরোধী কাজের জন্য শীঘ্রই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Advertisement

এ দিন বিশ্বনাথবাবু দাবি করেন, এক সময়ে তিনি একা শহরে সিপিএমের বিরুদ্ধে টানা লড়াই করে কাউন্সিলর হয়েছেন। একাধিক আসনে দলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে এনেছেন। এখন যাঁরা তৃণমূলের নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁদের তখন ময়দানে দেখা যেত না। এ বার কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন বিশ্বনাথবাবু। তিনি বলেন, ‘‘বরাবর মানুষের জন্য কাজ করে গিয়েছি। সেটাই করে যেতে চাই। তৃণমূলের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।’’

এ সবের মধ্যেও বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থিপদ নিয়ে জট পুরোপুরি কাটেনি এই কেন্দ্রে। এখানে বিশ্বনাথবাবুই জোটের প্রার্থী বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের জেলা শিল্পাঞ্চল সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী। কিন্তু আজ, সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে সিপিএম প্রার্থী বিপ্রেন্দু চক্রবর্তীও মনোনয়ন জমা দিতে পারেন বলে সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে, প্রার্থী নিয়ে জোটে টানাপড়েন মেটার কোনও ইঙ্গিত এ দিনও মেলেনি।

দিন কয়েক আগে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে প্রাক্তন বিধায়ক বিপ্রেন্দু বাবুর নাম ঘোষণা করা হয়। প্রচারও শুরু হয়। তার পরেই আবার কংগ্রেস এই আসনে প্রার্থী দেবে বলে জানায়। মঙ্গলবার আইএনটিইউসি নেতা স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণাও করা হয়। বিপ্রেন্দুবাবুকে তাঁর দল সরে যেতে বলে। কিন্তু শনিবার থেকে ফের নতুন করে প্রচার শুরু করেন বিপ্রেন্দুবাবু। সে দিন বিকেলেই কংগ্রেসের তরফে প্রার্থী হিসেবে স্বপনবাবুর বদলে বিশ্বনাথবাবুর নাম জানানো হয়। ১৯৯৭ সালে তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জিতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে যোগ দেন তৃণমূলে। এর পরে ২০০২, ২০০৭ ও ২০১২ সালের পুরভোটে তৃণমূলের হয়ে লড়ে জয়ী হন।

কংগ্রেসের জেলা শিল্পাঞ্চল সভাপতি দেবেশবাবু অবশ্য এ দিন দাবি করেন, শিল্পাঞ্চলের তিনটি আসনে কংগ্রেস লড়ছে। তার মধ্যে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্র রয়েছে। এখানে জোটের পক্ষে বিশ্বনাথবাবুই একমাত্র প্রার্থী বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে এককাট্টা লড়াই হবে। প্রদেশ নেতৃত্ব সেটা জানিয়ে দিয়েছেন। কাজেই এক জন প্রার্থীই থাকবেন। তিনি বিশ্বনাথবাবু।’’

দু’দলের নেতাদের একাংশের ধারণা, বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে বিশ্বনাথবাবু লড়াই করলে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব মুখোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। কারণ, বাম এবং কংগ্রেসের ভোট ছাড়াও বিশ্বনাথবাবুর অনুগামী ও সমর্থকদের ভোট রয়েছে, যা আদতে তৃণমূলের ভোট-বাক্সে যেতে পারত। সেই অঙ্কেই এখন ছক কষছে বাম-কংগ্রেস জোট।

আরও পড়ুন

Advertisement