Advertisement
E-Paper

কী পড়ানো হল, চুপচাপ বহু ছাত্রীই

উত্তরণ প্রকল্পে জেলার ৬৯টি স্কুলের মানোন্নয়নে তাদের দত্তক নিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা। শুক্রবার ছিল প্রথম পরিদর্শন। বেলা ১২টা নাগাদ জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব পৌঁছে যান বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৭ ০১:৪৭
স্কুলে জেলাশাসক। নিজস্ব চিত্র

স্কুলে জেলাশাসক। নিজস্ব চিত্র

অষ্টম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলছে। আচমকা ঢুকে এক কর্তার প্রশ্ন, “বল তো এতক্ষণ ধরে তোমাদের কী বোঝানো হচ্ছিল?” বেশির ভাগ ছাত্রীই মাথা নামিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। যে ক’জন উত্তর দিল, তাও ভুল। শুক্রবার কেতুগ্রামের একটি গার্লস হাইস্কুলে গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী রইলেন কাটোয়ার মহকুমাশাসক সৌমেন পাল। তাঁর পরামর্শ, ‘‘শিক্ষিকাদের পড়ানোর শেষে দু’জন করে ছাত্রী কী বুঝল তা অন্যদের বলবে।’’

উত্তরণ প্রকল্পে জেলার ৬৯টি স্কুলের মানোন্নয়নে তাদের দত্তক নিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা। শুক্রবার ছিল প্রথম পরিদর্শন। বেলা ১২টা নাগাদ জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব পৌঁছে যান বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলে। ঘণ্টা দুয়েক থাকার ফাঁকে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাসে যান তিনি। সেখানে জিএসটি, খেলা নিয়ে প্রশ্নোত্তর চলে। ভবিষ্যতে কে কী হতে চায়, তাও জানতে চান জেলাশাসক। ঈশানী রায় নামে এক ছাত্রী বলে ওঠে, “স্যার, প্রতিটি বিষয়ে দু’টো করে টিউশন রয়েছে। বিকেল তিনটের পর স্কুলে প্র্যাকটিক্যাল হয়। আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি।” জেলাশাসক হেসে বলেন, “নেহি, নেহি, গৃহশিক্ষককে কী ভাবে সামলাবে, সেটা তোমার বিষয়। স্কুলে আসতেই হবে। আমি এখন এই স্কুলের দায়িত্বে আছি। নিয়মিত খোঁজ নেব। পড়াশোনোর মান বাড়াতে হবে।” এরপরেই তাঁর প্রশ্ন, “গৃহশিক্ষকের এত রমরমা, তাহলে কী স্কুলে ঠিকমতো পড়ানো হয় না?” শিক্ষকেরা অবশ্য জানান, পড়াশোনা ভাল ভাবেই করানো হয়।

এই প্রকল্পের রূপায়ণের দায়িত্বে থাকা সর্বশিক্ষ প্রকল্পের জেলা আধিকারিক শারদ্বতী চৌধুরী গিয়েছিলেন বর্ধমানের আদর্শ বিদ্যাপীঠ স্কুলে। সেখানকার পড়ুয়াদের উপস্থিতির কম হার দেখে চমকে যান তিনি। শিক্ষক, শিক্ষিকাদের এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার জন্য বলেন। বর্ধমান ১ ব্লকের সিমডাল থাকুমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের শাখা রয়েছে। কিন্তু সেখানে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র এক জন। পরিদর্শনে যাওয়া বিডিও দেবদুলাল বিশ্বাস বলেন, “শিক্ষক থেকে পরিচালন সমিতির সবাইকে উদ্যোগী হতে বলেছি। এত সুন্দর ল্যাবরেটরি থাকার পরেও শিক্ষকদের গা নেই বলেই বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়ারা ভর্তি হয়নি।”

সবমিলিয়ে প্রথম দিন স্কুল পরিদর্শনে বেরনো কর্তাদের প্রতিক্রিয়া, সকাল দেখে যেমন দিনটা কেমন হবে বোঝা যায়, তেমনি প্রথম দিন গিয়েই বোঝা গিয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার হাল। জেলাশাসকের কথায়, “আমাদের সঙ্গে অবর বা সহকারী স্কুল পরিদর্শকদের থাকার জন্য বলেছি। তাতে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে।”

School inspection Students
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy