আগাম কোনও নির্দেশিকা ছাড়াই রবিবার ছুটির দিনে মাইথন বাঁধ লাগোয়া থার্ড ডাইক বনভোজন কেন্দ্রে যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।চরম সমস্যায় পড়েন পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকেরা। গাড়ি নিয়ে ভিতরে ঢুকতে না পেরে অনেকেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েই বনভোজন সেরে বাড়ি ফেরেন। দাবি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিশেষ পুজো ও অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ দিন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।
থার্ড ডাইক কার্যত ফাঁকাই ছিল এ দিন। বন্ধ ছিল দোকানপাটও। কল্যানেশ্বরী নাকা পয়েন্ট থেকেই গাড়ি আটকে ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষও। তবে এই সিদ্ধান্তের আগাম ঘোষণা বা নোটিস ছিল না বলে হয়রানি হল অনেকের। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের গমস্তা হাঁসদা জানান, রবিবার ওই বনভোজন কেন্দ্রে তাঁদের বিশেষ পুজোর অনুষ্ঠানে নাচ-গান, ভোগের আয়োজন চলছিল। সুষ্ঠু ভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্যই এক দিনের জন্য থার্ড ডাইকে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “সিধাবাড়ি, ফায়ারিং রেঞ্জ-সহ অন্য বনভোজন কেন্দ্রগুলি খোলা ছিল। পর্যটকদের অন্য রাস্তা ব্যবহার করে সেখানে যেতে বলা হচ্ছিল।”
ডানকুনি থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রূপা কুন্ডু বলেন, “ছুটির দিনে মাইথনে থার্ড ডাইকে এসেছিলাম, কিন্তু গাড়ি ঢোকার আগেই পুলিশ আটকে দেয়। জানানো হয়, প্রবেশ নিষিদ্ধ। অন্য বনভোজন কেন্দ্রগুলি চালু থাকলেও সেগুলিতে পৌঁছতে ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বনভোজন করতে বাধ্য হই।” নৌকাচালক ইনাত আলির বক্তব্য, “প্রতি বছরই আদিবাসীদের পুজো হয়। কিন্তু এ বার পর্যটকদের আগাম নোটিস না দেওয়ায় নৌকো-সহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে হেঁটে এসে নৌকা বিহার করলেও বেশির ভাগই ফিরে গিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে।”
সালনপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “এই বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আগাম কোনও অফিসিয়াল কমিউনিকেশন বা পরিকল্পনার তথ্য ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)