Advertisement
E-Paper

মাঠে আক্রান্ত মহিলা, তরজা ‘নির্মল’ প্রকল্পে

ভোরে শৌচকর্ম করতে বেরিয়ে আক্রান্ত হলেন এক মহিলা। মাথায় ও ঘাড়ে গুরুতর চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি জামুড়িয়ার নিঘার ওই মহিলা। কে বা কারা, কী কারণে তাঁর উপরে চড়াও হল সে নিয়ে সংশয়ে পরিবারের লোকজন ও পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০১৭ ০১:২১
নিঘায় ঘটনাস্থলে পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।

নিঘায় ঘটনাস্থলে পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।

ভোরে শৌচকর্ম করতে বেরিয়ে আক্রান্ত হলেন এক মহিলা। মাথায় ও ঘাড়ে গুরুতর চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি জামুড়িয়ার নিঘার ওই মহিলা। কে বা কারা, কী কারণে তাঁর উপরে চড়াও হল সে নিয়ে সংশয়ে পরিবারের লোকজন ও পুলিশ।

আসানসোল জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আশঙ্কাজনক ওই মহিলাকে সিসিইউ-তে রাখা হয়েছে। তাঁর পুরোপুরি জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত কী ঘটেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার পরে এলাকা নির্মল করতে শৌচাগার তৈরির প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে পুর কর্তৃপক্ষ ও বিরোধীদের মধ্যে চাপান-উতোর তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার স্বামী দিল্লিতে দিনমজুরের কাজ করেন। জামুড়িয়ার নিঘায় ইমলিধাওড়ায় ১৪ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন মহিলা। আশপাশের বাড়িতে থাকে তাঁর দুই দেওরের পরিবার। তাঁরা জানান, অন্য দিনের মতোই শনিবার ভোরে মাঠে শৌচকর্ম করতে বেরোন মহিলা। কিন্তু অনেক ক্ষণ পরেও না ফেরায় তাঁর মেয়েরা কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। এর পরে খোঁজাখুঁজি করে দেখা যায়, মাঠে অজ্ঞান অবস্থায় তিনি পড়ে রয়েছেন। জামাকাপড় অবিন্যস্ত। পাশে পড়ে রয়েছে গলার হার, টর্চ।

পরিবারের লোকজনের চেঁচামেচিতে লোক জড়ো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মহিলাকে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, মহিলার মাথা থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল। চোখেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর ঊষা পাসোয়ান হাসপাতালে মহিলাকে দেখতে যান। তিনি বলেন, ‘‘দুষ্কৃতীরা ওঁকে বেধড়ক মারধর করেছে। মৃত্যু হয়েছে মনে করে ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়েছে বলে আমাদের অনুমান। পুলিশের কাছে উপযুক্ত তদন্তের আর্জি জানিয়েছে।’’ এলাকার নানা সূত্রের দাবি, পারিবারিক বিবাদের জেরে এমন ঘটনা কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা উচিত।

এসিপি (সেন্ট্রাল) বরুণ বৈদ্য এ দিন বলেন, ‘‘ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের লোকজনও সাহায্য করছেন।’’ মহিলার উপরে কোনও যৌন নির্যাতন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করার আর্জি জানিয়েছেন পরিজনেরা। যদিও হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে মহিলার উপরে যৌন নির্যাতনের চিহ্ন মেলেনি।

এলাকার সিপিএম নেতা মনোজ দত্তের অভিযোগ, ‘‘ওই এলাকায় কয়েক মাস আগেও ধর্ষণ ও মারধরের একটি ঘটনা ঘটেছিল। বারবার কেন এমন দুষ্কর্ম হচ্ছে, তা তদন্ত করা দরকার।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘ঘটা করে নানা ব্লক নির্মল বলে ঘোষণা করা হচ্ছে। অথচ, পুর এলাকায় শৌচাগারের অভাবে মাঠে শৌচকর্ম করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এ দিকে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন।’’ আসানসোলে মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির পাল্টা বক্তব্য, ‘‘এমন অপরাধের কারণ হিসেবে শুধু শৌচাগার না থাকাকে দায়ী করলে অপরাধকে লঘু করে দেখানো হয়। তা উচিত নয়। তবে শৌচাগার সর্বত্র তৈরি করা হবে।’’

Nirmal project
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy