ধর্মঘটের আগের দিন সিপিএম-তৃণমূল সংঘর্ষে অশান্ত হয়ে উঠল সালানপুর ও রূপনারায়ণপুর। সিপিএমের মিছিলে হামলা, লোকাল কমিটি অফিসে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাদের সমর্থকদের মোটরবাইক ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মাথা ফাটল রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির আইসি অমিত হালদারের। রাত পর্যন্ত দফায়-দফায় সংঘর্ষ হয়। এলাকায় বড় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ আজ, বুধবারের ধর্মঘটের সমর্থনে রূপনারায়ণপুরে একটি মিছিল বের করে সিপিএম। ধর্মঘটের বিরোধিতা করে তৃণমূলের লোকজন একটি মোটরবাইক মিছিল করছিল। সেটি সিপিএমের মিছিলের কাছাকাছি চলে আসে। সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই তৃণমূলের ওই মিছিল থেকে হামলা চালানো হয়েছে তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের উপরে। তাঁদের মিছিলে বোমাও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ সিপিএম নেতাদের। দু’পক্ষের মারামারি শুরু হয়ে যায়।
নবান্ন সূত্রের খবর, পুলিশের পাঠানো রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সিপিএমের তরফে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা হচ্ছিল। তৃণমূলের তরফে একটি পথসভা করার জন্য আগে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। সিপিএমের মিছিল থেকে সেই পথসভায় ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। তার জেরেই অশান্তি তৈরি হয় এলাকায়। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের কর্মীদের বেশ কয়েকটি মোটরবাইক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আশপাশের কয়েকটি দোকানেও হামলা হয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রীতিমতো হিমসিম খায় পুলিশ। তবে তখনকার মতো দু’পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু খানিক পরেই ফের গোলমাল শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেমারি, পাহাড়গড়া-সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে তৃণমূলের বহু লোকজন রূপনারায়ণপুরে জড়ো হন। তখন সালানপুরের ডাবর ও সামডিহি রোড লাগোয়া এলাকায় কিছু সিপিএম কর্মী-সমর্থক দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের লোকজনের সংঘর্ষ বেধে যায়। সেই সময়ে কাছেই ছিলেন রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির আইসি অমিতবাবু। মারপিট থামাতে গিয়ে লাঠির ঘায়ে মাথা ফেটে যায় তাঁর। তাঁকে দুর্গাপুরের একটি নার্সিংহোমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আসানসোল-দুর্গাপুরের এসিপি (পশ্চিম) অসিত পাণ্ডে।
তবে গোলমাল থামানো যায়নি। সিপিএমের অভিযোগ, বাইরে থেকে জড়ো হওয়া তৃণমূলের কিছু লোকজন এর পরে ব্লক অফিসের কাছে তাদের লোকাল কমিটি অফিসে হাজির হয়। অফিসের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে তারা। যথেচ্ছ ভাঙচুর, নথিপত্র তছনছ করা হয়। তার পরে জিনিসপত্রে আগুন লাগিয়ে দেয়। দাউদাউ করে সে সব জ্বলতে থাকে অফিসের ভিতরে। গোটা এলাকা জুড়েই বিক্ষিপ্ত ভাবে সংঘর্ষ চলতে থাকে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিকেলে সংঘর্ষের পরেই দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ইচ্ছে করে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলছেন না, এই অভিযোগে তৃণমূলের লোকজন দোকানপাট খোলানোর চেষ্টা করে। কয়েকশো লোক এলাকা জুড়ে দাপিয়ে বেড়ায়। সন্ধ্যায় আসানসোল থেকে পুলিশের বড় বাহিনী এলাকায় থেকে টহল দিতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গোটা ঘটনায় দু’পক্ষের জনা দশেক আহত হয়েছেন। তৃণমূলের এক আহত কর্মীকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে।
সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালিয়েছে তৃণমূল।’’ আসানসোলের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তথা সিটুর জেলা সম্পাদক বংশগোপাল চৌধুরীর অভিযোগ, ‘‘আমাদের তিন কর্মীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। পুলিশকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে আর্জি জানিয়েছি।’’ তৃণমূলের আসানসোল জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘আমাদের মিছিলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হামলা চালিয়েছে সিপিএম। মহিলাদের উপরে আক্রমণ হয়েছে।’’ স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল মজুমদারেরও অভিযোগ, ‘‘সিপিএম-ই আগে হামলা চালিয়েছে। প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমাদের কর্মীরা প্রহৃত হয়েছেন। তার জেরেই এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে।’’