দু’টি ব্লক নিয়ে গঠিত বিধানসভা কেন্দ্র। একটি ব্লকে পর পর দু’টি বিধানসভা ভোটে পিছিয়ে থেকেছে তৃণমূল। কিন্তু বৈতরণী পার করে দিয়েছে অন্য ব্লক। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লক তাই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত। আসন্ন বিধানসভা ভোটে তাই এই ব্লককে যেমন গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল, উল্টো দিকে ব্যবধান কমাতে ‘পাখির চোখ’ করছে বিজেপিও।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাণ্ডবেশ্বরে জয়ী হয় সিপিএম। এর পরে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করে আসানসোলের তৎকালীন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে। পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের ছ’টি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে তিনি প্রায় ৫০০ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের ছ’টি পঞ্চায়েতে প্রায় ছ’হাজার ভোটে এগিয়ে, তৃণমূল প্রার্থী জয়ী হন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ভোটে। ২০২১ সালের ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন জিতেন্দ্র। তৃণমূল ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করে তৎকালীন পাণ্ডবেশ্বর ব্লক সভাপতি তথা বর্তমান জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে। সে বারও তৃণমূল পাণ্ডবেশ্বর ব্লকে প্রায় তিন হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল। দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজার ও গোগলা পঞ্চায়েতেও এগিয়ে যায় বিজেপি। তবে লাউদোহায় ১,৮৫৩, ইছাপুরে ২,৭৫৮, প্রতাপপুরে ১,৪০৭ এবং জেমুয়ায় ১,৪৮০ ভোটের লিড পেয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩,৮০০ ভোটে জয়ী হন নরেন্দ্রনাথ।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা ভোটের পরে, ফলাফল পর্যালোচনা করে কোন কোন জায়গায় খামতি ছিল তা পূরণ করা হয়। সাংগঠনিক দুর্বলতা মেরামতির পাশাপাশি, জোর দেওয়া হয় উন্নয়নে। শ্মশানে বৈদ্যুতিন চুল্লি, রাস্তাঘাট, নিকাশি-সহ নানা উন্নয়নের কাজ হয়েছে সেখানে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এ বার নির্বাচনে যেমন দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকে ‘লিড’ বজায় থাকবে, তেমনই পাণ্ডবেশ্বর ব্লক থেকেও ‘লিড’ আসবে।
তবে বিজেপি জিতেন্দ্র তিওয়ারির পাল্টা দাবি, ‘‘পাণ্ডবেশ্বরে বরাবর বিজেপি এগিয়ে থাকে। দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকেও এ বার আমরা এগিয়ে যাব।’’ তিনি দাবি করেন, কয়লা-বালির বেআইনি কারবারের জেরে গ্রামের রাস্তাঘাট বেহাল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র বন্ধ। গ্রামে গ্রামে জলাধার হলেও, জল বাড়িতে পৌঁছয়নি। বহু সরকারি প্রকল্প অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে আছে। বন দফতরের জমি দখল করে আবাসন তৈরি হচ্ছে। অথচ, দুঃস্থ মানুষ পাট্টা পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, ‘‘ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও নাক গলাচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা। এ সব সাধারণ মানুষ ভাল চোখে দেখছেন না। এ বারের নির্বাচনে এর ফল পাবে তৃণমূল।’’
তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথের পাল্টা বক্তব্য, “উনি ব্লকে এলে একা একা ঘুরে চলে যান। তাই হতাশা থেকে হয়তো এ সব বলছেন।’’ তাঁর দাবি, ব্লকে সাধক কবি নীলকণ্ঠের নামে আইটিআই কলেজ, ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬টি রাস্তা, তিনটি গ্রামে কমিউনিটি সেন্টার-সহ বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এ ছাড়া, কাঁটাবেড়িয়ায় রাসায়নিক তৈরির কারখানা-সহ নানা কারখানা গড়ে উঠছে। সেখানে এবং ইসিএলের বিভিন্ন প্রকল্পের আউটসোর্সিং-এ স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হচ্ছে। তিনি বলেন, “তা ছাড়া, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুফল থেকে যাতে কেউ বঞ্চিত না হন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের কর্মীরা খোঁজ নিয়ে থাকেন। তাই দুর্গাপুর-ফরিদপুরের মানুষ বরাবরের মতো এ বারও আমাদের পাশেই থাকবেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)