E-Paper

মাথা বদলেও পুর-পরিষেবা বেহালই, দাবি

বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমান বোর্ড পরিষেবা নজর দেওয়ার পরিবর্তে বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছে নিজেদের মধ্যে কোন্দল নিয়ে।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫০
কালনা পৌরসভা।

কালনা পৌরসভা। ফাইল চিত্র।

পুরপ্রধান বদলানো হয়েছে। তবে পরিষেবার হাল বদলায়নি। এমনই অভিযোগ কালনা শহরের বাসিন্দাদের একাংশের। তাঁদের দাবি, পুরসভা না নিয়েছে নতুন কোনও প্রকল্প, না হয়েছে বেহাল রাস্তার সংস্কার।

কালনা শহরে ১৮টি ওয়ার্ডে বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। মহকুমার একমাত্র শহরে কেনাকাটা, লেখাপড়া, চিকিৎসা-সহ নানা প্রয়োজনে গ্রামীণ এলাকা থেকেও কয়েক হাজার মানুষ আসেন। শহর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। সে সবের টানে দেশ, বিদেশের পর্যটকদের দেখা যায়। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চলতি পুরবোর্ডের বয়স বছর চারেক হলেও নতুন কোনও প্রকল্প নিতে দেখা যায়নি পুরসভাকে। ভাগীরথীর কয়েকটি চর নিয়ে ইকো ট্যুরিজ়মের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। শহরে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে যানজট। সোনাপট্টি, কলেজ চত্বর, ১০৮ শিব মন্দির রোড, চকবাজার,পুরসভার সামনের রাস্তা-সহ বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি গাড়ি ঢুকে গেলেই শুরু হয়ে যায় তীব্র যানজট। যানজট বাড়ার একটি বড় কারণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলা টোটো। সকাল থেকে আশপাশের গ্রাম থেকে শহরে আসতে দেখা যায় প্রচুর টোটোকে। যানজটের সঙ্গে বেড়েছে অবৈধ দখলদারি। একে শহরের রাস্তাগুলি কম চওড়া। তার উপরে অবৈধ দখলদারির কারণে রাস্তা আরও ছোট হয়েছে। বেশ কিছু ব্যবসায়ী সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করেন ফুটপাতে। আগের পুরবোর্ডের সময়ে বেশ কিছু রাস্তার ফুটপাত চওড়া করা হয়েছিল। বর্তমানে ফুটপাতে সকাল থেকে এক শ্রেণির লোক রেখে দেন মোটর সাইকেল, টোটোর মত যানবাহন। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে ক্রমশ ঘিঞ্জি হয়েছে ভাগীরথীর পাড়ের এ শহর। বেশ কিছু খেলার মাঠে তৈরি হয়েছে নির্মাণ। নতুন করে জমি কিনে খেলার মাঠ তৈরিতে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি পুরসভাকে।শহরে বহু ওয়ার্ডে রাস্তা বেহাল। কোথাও রাস্তায় তৈরি হয়েছে ছোট, বড় গর্ত।কোথাও রাস্তা থেকে উঠে গিয়েছে পিচ, পাথর। পর্যটকদের আকৃষ্ট করে এমন পরিকল্পনাও নিতে পারেনি পুরসভা।

বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমান বোর্ড পরিষেবা নজর দেওয়ার পরিবর্তে বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছে নিজেদের মধ্যে কোন্দল নিয়ে। মাস তিনেক আগে পুরসভার পুরপ্রধান পরিবর্তন হয়। আনন্দ দত্তকে সরিয়ে পুরপ্রধান করা হয় রিনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।অভিযোগ পুরপ্রধান বদল হলেও হাল ফেরেনি পরিষেবার। শহরের বাসিন্দা গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘‘গ্রীষ্মে কয়েকটি ওয়ার্ডে জলকষ্ট রয়েছে। বেশ কিছু রাস্তা বেহাল। বর্ষায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমে। পুরসভার মাথা বদল হলেও পরিষেবার উন্নতি হয়নি।’’ আর এক বাসিন্দা বিশ্বনাথ ঘোষের কথায়, ‘‘শহরের রাস্তা ঘাট সরু। তার উপরে যানজটে নাকাল হতে হয়। টোটো যত বাড়ছে তত যানজট বাড়ছে। অথচ টোটো নিয়ন্ত্রণে কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। বাড়ছে অবৈধ দখলদারি। ফুটপাত দখল হয়ে গিয়েছে। পুরসভা হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে।’’

সামনেই বিধানসভা ভোট। পুর-এলাকা নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে রাজ্যের শাসক দলের অন্দরেও। শহরের এক তৃণমূল নেতার কথায়, ‘‘লোকসভা ভোটে বেশির ভাগ ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। পুরসভার নতুন বোর্ড এমন কিছু করতে পারেনি যা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমরা ভোট চাইতে যাব। ফলে পুরসভা নিয়ে চিন্তা থেকে যাচ্ছে।’’

পুর-পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ মানতে নারাজ উপপুরপ্রধান তপন পোড়েল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কিছু রাস্তার সংস্কার হয়েছে। আরও কিছু রাস্তার সংস্কারের কথা ভাবা হয়েছে। সম্প্রতি দু’টি পার্ক নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। যানজট, রাস্তা দখলের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে পুরসভা।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kalna

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy