E-Paper

দুই বাণিজ্য চুক্তিতে বাড়বে চায়ের বাজার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সে দেশে শুল্ক হ্রাস ভারতীয় চায়ের পক্ষে ইতিবাচক।

বিজয়গোপাল চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা উৎপাদক ও চা পানকারী দেশ। দেশের চা শিল্প বর্তমানে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক কৃষিশিল্পই শুধু নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র চা চাষি, নারীশ্রমশক্তি এবং আঞ্চলিক পিছিয়ে পড়া জায়গার উন্নয়নের সঙ্গে গভীর ভাবে যুক্ত।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চা শিল্পে এক দিকে যেমন নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে, তেমন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় চা ইউরোপের বাজারে শূন্য শুল্কের সুবিধা পাবে। বর্তমানে ভারতের চা জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করে ইউরোপের অন্য দেশে যায়। বাণিজ্য নীতি কার্যকর হলে বিশেষ করে জিআই-শংসিত দার্জিলিং ও অসমের প্রিমিয়াম অর্থডক্স চা, স্পেশালিটি চা উচ্চ মূল্য পেতে পারে। ইউরোপ মূলত প্রিমিয়াম, অর্গানিক ও সার্টিফায়েড চায়ের বৃহৎ বাজার হওয়ায় ভারতীয় চা উৎপাদকেরা আরও বেশি লাভের মুখ দেখতে পারেন। তবে ইউরোপের বাজারে ‘কীটনাশক অবশিষ্ট সীমা’, পরিবেশ, কার্বন ফুটপ্রিন্ট, শ্রমের মানদণ্ড পূরণ করা আবশ্যিক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সে দেশে শুল্ক হ্রাস ভারতীয় চায়ের পক্ষে ইতিবাচক। ২০২৪ সালে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ মিলিয়ন কেজি চা রফতানি করা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনা থেকে চা কেনে। যা মূলত ‘আইসড্‌ টি’তে ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের চায়ের একটি খুবই সম্ভাবনাময় বাজার রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস’ ঘোষণা করেছে, একমাত্র চা গাছের পাতা থেকে তৈরি চা-ই হল স্বাস্থ্যকর পানীয়। সে দেশে কালো চায়ের জনপ্রিয়তা ক্রমবৃদ্ধিমান। যুক্তরাষ্ট্রে বেশি চাহিদা টি ব্যাগ, ফ্লেভার টি, আইসড্‌ টি, রেডি টু ড্রিঙ্ক টি-এর। ভারতীয় চা সংস্থাগুলি যদি সেই চাহিদা পূরণ করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য স্থিতিশীলতা ও আয় বৃদ্ধি পাবে।

এই দুই বিশেষ চুক্তি কিন্তু ভারতের চা শিল্পে নতুন অর্থনৈতিক জোয়ারের সুযোগ করে দিতে পারে। চুক্তিগুলি কার্যকর হলে ভাল চায়ের দাম বহু গুণ বাড়বে, অর্থোডক্স চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি, সিটিসি চায়ের দামবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তি বৃদ্ধি, নিলাম বনাম সরাসরি রফতানি ভারসাম্য পরিবর্তন, অর্গানিক চা উৎপাদন বৃদ্ধি, কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস, কার্বন স্মার্ট ও ফ্রেন্ডলি চা চাষের প্রসার ঘটবে। অতীতেও দেখা গিয়েছে, রফতানি বৃদ্ধি পেলে দেশের ভিতরেও চায়ের দাম ভাল ও সুস্থির থাকে। ২০২৫ সালে ভারতের চায়ের রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ মিলিয়ন কেজি,যা কি না রেকর্ড।

এখন দেখার, এই দুই চুক্তি কী ভাবে আগামী দিনের ৩০০ মিলিয়ন কেজি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ও ২০০ বছরের পুরনো দেশীয় চা শিল্পকে বাঁচাতে সহায়তা করে। সামগ্রিক ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় চা শিল্পের জন্য বড় রফতানির সুযোগ করবে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম ও স্পেশ্যালিটি চায়ের ক্ষেত্রে। আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি স্বল্পমেয়াদে বাজার সম্প্রসারণ ও শুল্কে স্বস্তি দেবে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই মানদণ্ড পূরণ, চা শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শ্রমিক, ক্ষুদ্র চা চাষির সুরক্ষা এবং বিশেষ ধরনের চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধিই হবে সাফল্যর মূল চাবিকাঠি।

সভাপতি, কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Tea Garden

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy