E-Paper

সীমান্তবর্তী সব বুথেই সভা সঙ্ঘের

বাংলাদেশে ভোটের আগে থেকেই সীমান্তে সক্রিয় সঙ্ঘ। সীমান্ত এলাকায় কেমন কাজ হচ্ছে তা নিয়ে নিয়মিত সঙ্ঘের দিল্লির দফতরেও রিপোর্ট চালাচালি হচ্ছে বলে খবর।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রতিটি বুথে অন্তত পঞ্চাশটি করে ছোট সভা করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ। বুথের জনসংখ্যা কম বা বেশি অনুসারে সেই সভার সংখ্যার পরিবর্তন হতে পারে। ইতিমধ্যেই সভা শুরু হয়ে গিয়েছে। সভা হচ্ছে পাঁচ থেকে পনেরো জনকে নিয়ে। কখনও পাঁচের কম বা পনেরোর বেশি লোক নিয়েও সভা হচ্ছে।

কী বলা হচ্ছে সভায়? সঙ্ঘ সূত্রে খবর, সীমান্তে সন্দেহজনক কিছু আন্দাজ করলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করতে। বিএসএফের সঙ্গেও সঙ্ঘের সীমান্ত সংগঠন যোগাযোগ রাখছে। সম্প্রতি শিলিগুড়ির কদমতলায় উত্তরবঙ্গে বিএসএফের সদর দফতরে সঙ্ঘের সংগঠনের তরফে বিএসএফের সঙ্গেও আলোচনা হয় বলে খবর। সঙ্ঘের দাবি, তৎপরতার কারণ হল সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের নানা এলাকায় জামাতের জয় এবং বাড়বাড়ন্ত।

বাংলাদেশে ভোটের আগে থেকেই সীমান্তে সক্রিয় সঙ্ঘ। সীমান্ত এলাকায় কেমন কাজ হচ্ছে তা নিয়ে নিয়মিত সঙ্ঘের দিল্লির দফতরেও রিপোর্ট চালাচালি হচ্ছে বলে খবর। সঙ্ঘের হয়ে সীমান্তে কাজ করে সীমান্ত চেতনা মঞ্চ। এটি সঙ্ঘের বিবিধ ক্ষেত্রের সংগঠনের অন্যতম। যদিও এখন একটি সংগঠন নয়, সঙ্ঘের যত শাখা সংগঠন রয়েছে সকলে এক হয়েই সভা বা কর্মসূচি চালাচ্ছে। সঙ্ঘের এই কর্মসূচি এ রাজ্যে ভোটের মুখে চর্চায় উঠে আসছে। কারণ, উত্তরবঙ্গের আট জেলার মধ্যে ছ’টি জেলাতেই বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভা আসনের অন্তত ২৮টি আসন সীমান্ত লাগোয়া। গত বিধানসভাতে উত্তরবঙ্গেই তুলনামূলক ভাল হয়েছিল বিজেপির। এ বার উত্তরবঙ্গের গড় ধরে রাখতে চায় দল।

সঙ্ঘের দাবি, ভোট নয়, সীমান্তের বাসিন্দাদের ‘বিপদ’ থেকে সতর্ক করাই তাদের মূল এবং একমাত্র লক্ষ্য। সূত্রের দাবি, যে লক্ষ্যমাত্রা সঙ্ঘ নিয়েছে তাতে বিধানসভা ভোটের আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় ছোট-ছোট সভার সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়াতে পারে। মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের আগে সেখানে চল্লিশ হাজার সভা করেছিল সঙ্ঘ। হরিয়ানা ভোটের আগেও সঙ্ঘ প্রচুর সভা করেছিল। বঙ্গে ভোটের আগেও সঙ্ঘের এমন ছোট ছোট সভার আয়োজন ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, এ রাজ্যে কতটা সফল হবে সঙ্ঘ। রাজ্যের অনগ্রসর কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বুলু চিকবরাইক বলেন, ‘‘সঙ্ঘ সরাসরি ভোট প্রচারে নেমেছে। তবে তাতে মানুষ কান দেবে না।’’

সঙ্ঘের তরফে অবশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় তাঁদের সভার সঙ্গে ভোটের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। সঙ্ঘের সীমান্ত চেতনা মঞ্চের রাজ্যের সংগঠন সম্পাদক গণেশ পাল বলেন, ‘‘বাংলাদেশে জামাতের শক্তিবৃদ্ধি দেশের সুরক্ষার জন্য বিপদ। আমরা সীমান্তবাসীকে সতর্ক থাকতে বলছি। কিছু হলেই বিএসএফকে জানাতে বলেছি। বিএসএফের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ রাখছি, চর্চা করছি।’’ রাজ্যের দিকে আঙুল তুলে তিনি দ্রুত উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবি করেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

RSS Jalpaiguri

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy