Advertisement
E-Paper

প্রধান শিক্ষককে নিয়ে ক্ষোভ, হল না অনুষ্ঠান

প্রধান শিক্ষকের কাজকর্মের প্রতিবাদে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট করল দুর্গাপুরের আদিবাসী আবাসিক স্কুলের পড়ুয়ারা। শুক্রবার তারা প্ল্যাকার্ড-পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এ দিনই ওই স্কুলে মহিলা সহকর্মীকে মারধরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০০:২১
পড়ুয়াদের বিক্ষোভ। শুক্রবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

পড়ুয়াদের বিক্ষোভ। শুক্রবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

প্রধান শিক্ষকের কাজকর্মের প্রতিবাদে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট করল দুর্গাপুরের আদিবাসী আবাসিক স্কুলের পড়ুয়ারা। শুক্রবার তারা প্ল্যাকার্ড-পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এ দিনই ওই স্কুলে মহিলা সহকর্মীকে মারধরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান। তবে আইনজীবীদের কর্মবিরতি থাকায় তিনি ফিরে যান। তাঁর বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ‘বাইরের লোক দিয়ে ধর্ষণ’ করানোর হুমকির অভিযোগের অবশ্য কোনও অগ্রগতি হয়নি। মেয়েটিকে দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

ফুলঝোড়ের ওই স্কুলের শিক্ষিকা করুণাময়ী মণ্ডল বৃহস্পতিবার পুলিশে অভিযোগ করেন, বিএড সংক্রান্ত দরখাস্ত জমা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষক বিশুদ্ধানন্দ রায় তাঁকে মারধর করেন। প্রতিবাদ করায় এক সহ-শিক্ষকও রেহাই পাননি। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় তাঁদের উপরে এ ভাবে হামলা হয়েছে বলে দাবি ওই শিক্ষিকার।

পুলিশ জানায়, প্রধান শিক্ষক বিশুদ্ধানন্দবাবুর বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় মারধর, আটকে রাখা, সম্পত্তি নষ্ট, সম্মানহানির হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার প্রধান শিক্ষক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান। কিন্তু, দ্বিতীয়ার্ধে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে গণ্ডগোলের জেরে আইনজীবীরা কর্মবিরতি শুরু করায় তাঁকে ফিরে যেতে হয়। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা বুধবার ফের কাজে যোগ দেবেন। সে দিন তিনি আবার আদালতে আসবেন বলে জানান বিশুদ্ধানন্দবাবু। এর মাঝে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে কি না, সে প্রশ্নে কমিশনারেটের এক পুলিশকর্তা জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ১ সেপ্টেম্বর মহকুমাশাসকের কাছে স্কুলের পড়ুয়ারা একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়ে জানিয়েছিল, প্রধান শিক্ষক তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। নিয়ম না থাকলেও তাদের কাছ থেকে নানা ভাবে টাকা নেওয়া হয়। হস্টেলে খাবার-সহ অন্য পরিষেবার মান খারাপ। এ নিয়ে আন্দোলন শুরু করায় প্রধান শিক্ষক নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গত ২২ জুলাই ‘বাইরের লোক দিয়ে ধর্ষণ’ করানোর হুমকি দেন বলে মহকুমাশাসকের কাছে অভিযোগ করে ওই পড়ুয়ারা।

কমিশনারেটের এডিসিপি (পূর্ব) সুনীল যাদব শুক্রবার জানান, ওই ছাত্রী পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ করেনি। তাকে দ্রুত তা করতে বলা হয়েছে। তার পরেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রীটি হস্টেলে থাকে। তার বাবাকে খবর পাঠানো হয়েছে। তিনি এলেই লিখিত অভিযোগ করা হবে। বীরভূম আদিবাসী গাঁওতার পক্ষে জেলা আহ্বায়ক সুনীল সোরেন জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর মহকুমাশাসকের (দুর্গাপুর) কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ দিন ওই স্কুলে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে পড়ুয়া ও অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা হাজির হলেও প্রধান শিক্ষক যাননি। পড়ুয়াদের একাংশ দাবি জানায়, প্রধান শিক্ষককে স্কুলে এসে দোষ স্বীকার করতে হবে। আর একটি অংশ আবার প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি তোলে। শেষ পর্যন্ত এ দিন স্কুলে কোনও অনুষ্ঠান হয়নি। প্রধান শিক্ষক বিশুদ্ধানন্দবাবু বলেন, “আমি অসুস্থ। বেশ কিছু দিন স্কুলে যেতে পারব না।”

প্রধান শিক্ষকের এমন কাজকর্মে স্কুলের পরিচালন সমিতির সম্পাদক তথা তৃণমূল শিক্ষাসেলের নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ স্কুলের শিক্ষক ও তৃণমূলের একাংশের। কল্যাণবাবু অবশ্য বলেন, “ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি কোনও অনৈতিক কাজ করিনি। প্রধান শিক্ষক যদি তেমন কিছু করে থাকেন তবে তার দায় তাঁর।”

durgapur agitation headmaster
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy