বছর পাঁচেকের এক শিশুকে মারধর ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। শিশু কন্যাটির মায়ের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের ছুতোয় আসানসোলে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে নিয়মিত মারধর করা হয়েছে। এমনকী মা আনতে গেলে তাঁকেও কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে বর্ধমান মহিলা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
বর্ধমান মহিলা পুলিশ থানায় ওই শিশুকন্যার মা, পিঙ্কি সাউ অভিযোগে জানান, মাস সাতেক আগে শিশুটির বাবা পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আসানসোলের নিয়ামতপুরে নিয়ে যান শিশুটিকে। বারবার বলার পরেও ফেরত না দেওয়ায় গত সোমবার পিঙ্কিদেবী আনতে যান তাকে। অভিযোগ, ওখানে গিয়ে দেখেন শিশুটির সারা শরীরে ক্ষত। এরপরেই কোনও রকমে শিশুটিকে বর্ধমানে পৌঁছন তিনি। মঙ্গলবার রাতেই স্বামী ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শিশুটিকে মারধর ও নিগ্রহের অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার রাতেই নিয়ামতপুরের পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে সৎমা পায়েল যাদবকে গ্রেফতার করা হয়। তবে শিশুটির বাবার খোঁজ মেলেনি। বুধবার ওই ধৃত মহিলাকে আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজত হয়।
কাঁটাপুকুর এলাকার বাসিন্দা পিঙ্কিদেবী জানান, বছর সাতেক আগে নিয়ামতপুরের বাসিন্দা শঙ্কর যাদবের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁরা। বিয়ের পরেও কাঁটাপুকুরেই থাকতেন তাঁরা। শঙ্করবাবু একা মাঝেমধ্যে নিয়ামতপুর যাতায়াত করতেন। তবে বছর দেড়েক পরে গিয়ে আর ফেরেননি তিনি। কোনও যোগাযোগও রাখেননি। তারপর থেকে মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকতেন পিঙ্কিদেবী। তবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। পিঙ্কিদেবী বলেন, ‘‘জানতে পারি শঙ্করের আগের পক্ষের স্ত্রী রয়েছে। তারপর থেকে আমিও যোগাযোগ করিনি।’’ আচমকা মাস সাতেক আগে শঙ্করবাবু এসে বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান আছে বলে মেয়েকে নিয়ে যেতে চান। বাবা নিয়ে গিয়ে কী আর করবে ভেবে রাজি হয়ে যান পিঙ্কিদেবীও। কিন্তু মেয়েকে পাঠানোর পরে ফোনে ‘মেয়ে ঠিক আছে’ জানানো ছাড়া আর কিছু জানাতেন না শঙ্কর। মেয়ের সঙ্গে পিঙ্কিদেবীকে কথাও বলতে দিতেন না। এমনকী বারবার বলার পরেও মেয়েকে ফেরত দিয়ে যাননি শঙ্কর। বাধ্য হয়ে পিঙ্কিদেবীই যান নিয়ামতপুরে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ওখানে গিয়ে দেখি মেয়ের সারা শরীরে ক্ষতচিহ্ন। সৎ মা নিয়মিত মারধর করত বলে জানায় মেয়ে।’’ পরে তাঁকেও জোর করে স্থানীয় লছিপুরের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে দেহ ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চিৎকার করে আশপাশের লোক ডেকে কোনও রকমে মেয়েকে নিয়ে পালান তিনি।
মহিলা থানার আইসি বনানী রায় বলেন, ‘‘শিশুটিকে যে ভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা মঙ্গলবার ওকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি।’’ নিয়ামতপুরের পুলিশের সঙ্গে মিলে অভিযুক্ত শঙ্কর যাদবের খোঁজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।