১১ বছর আগে দুর্গাপুজোর সময়ে এক ব্যক্তিকে বাঁশে বেঁধে গণপিটুনি দেওয়ায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। সেই ঘটনায় দশ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। তাতে পানিহাটির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান পুরপ্রতিনিধি তৃণমূলের তারক গুহ এবং তাঁর এক ভাইয়ের নামও ছিল। পুলিশ ওই দু’জন-সহ আট জনকে গ্রেফতার করলেও প্রত্যেকে জামিনে মুক্ত ছিলেন। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে তারক-সহ পাঁচ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। আগামী মঙ্গলবার মামলার সাজা ঘোষণা করবে আদালত।
২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পানিহাটির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের গান্ধীনগরে শম্ভু চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তিকে বাঁশে বেঁধে গণপিটুনি দেওয়া হয়। সংজ্ঞাহীন শম্ভুকে পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেই সময়ে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের সভাপতি পদে ছিলেন তারক। এখনও সেই পদের পাশাপাশি তিনি পুরপ্রতিনিধিও। খুনের মামলায় জড়িত সত্ত্বেও ২০২২-এ কী ভাবে তাঁকে ভোটে টিকিট দেওয়া হয়েছিল? আবার বিরোধীদের কটাক্ষ, পানিহাটির শাসকদলের রাজনীতি যে বাড়ি ঘিরে নিয়ন্ত্রিত হয়, সেখানকার ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই দলীয় পদে থাকা এবং পুরপ্রতিনিধির টিকিট মিলেছিল তারকের। পুরপ্রধান
মলয় রায় বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা ছিল না। আইন আইনের পথে চলবে। কাকে, কী পদ দেওয়া হয়েছে, সেটা দলের পদাধিকারীরাই বলতে পারবেন।’’
এ দিন ব্যারাকপুর আদালতে তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অয়নকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানি ছিল। তারকের সঙ্গেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তাঁর ভাই, পানিহাটি তৃণমূলের উদ্বাস্তু সেলের সভাপতি নেপাল গুহ। জয়দেব মুখোপাধ্যায়, শ্যামল দাস ও হরিপদ সরকারও দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁদের জেল হেফাজত হয়েছে। মল্লিকা দে, নব চক্রবর্তী ও বুরন দাসকে বেকসুর খালাস করা হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)