E-Paper

আইপ্যাক-কাণ্ডে তদন্ত এগোতে উদ্যোগী পুলিশ

তার মধ্যেই কলকাতা পুলিশ তাদের তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়ে আইপ্যাকের কর্ণধারের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি যে আবাসনে সেখানকার রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করেছে কলকাতা পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতা হাই কোর্টে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইডির আবেদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পরে আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট করে রেখেছে রাজ্যও। আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলার শুনানি হতে পারে।

তার মধ্যেই কলকাতা পুলিশ তাদের তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়ে আইপ্যাকের কর্ণধারের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি যে আবাসনে সেখানকার রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করেছে কলকাতা পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ওই বহুতলের আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ডিভিআর (ডিজিটাল ভিডিয়ো রেকর্ডার)।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ইডি আধিকারিকেরা কখন ওই আবাসনে ঢুকেছিলেন বা তাঁদের সঙ্গে কারা ছিলেন তা জানার জন্যেই ওই রেজিস্টার এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর আগে ওই বহুতলের সিসি ক্যামেরা এবং ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে ছিল পুলিশ। যদিও সেখানকার সিসি ক্যামেরা খারাপ বলে সূত্রের খবর। ওই আবাসনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন জন নিরাপত্তারক্ষীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, সে দিন ইডির তদন্তকারীরা কী বলে আবাসনে ঢুকেছিলেন তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, আবাসনের রেজিস্টারে নিজেদের নাম না লিখেই ভিতরে ঢুকেছিলেন ইডির গোয়েন্দারা। এমনকি গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তারক্ষীদের মোবাইল ফোন নিয়ে নিয়েছিলেন তাঁরা। যে কারণে সকাল ছ’টার আগে ওই আবাসনে ইডি ঢুকলেও পুলিশ তা জানতে পারে সকাল ৯টা নাগাদ।

তবে পুলিশের একটি অংশের দাবি, ইডি আধিকারিকেরা তল্লাশি চালালে কখনওই রেজিস্টারে নাম লেখেন না। এমনকি নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে যেখানে ওই তল্লাশি হচ্ছে সেখানে উপস্থিত সকলের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেন তাঁরা। দিল্লির এক ইডি কর্তার দাবি, তল্লাশি অভিযানে অফিসারদের নাম গোপন রাখার জন্যই রেজিস্টারে স্বাক্ষর করা হয় না। সেটা আইনসম্মত। ওই কর্তা আরও জানান, ২০২৪ সালে রেশন দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালিতে শাহজাহান শেখের বাড়িতে তল্লাশি করতে যাওয়ার সময়ে শাহজাহান তাঁর ফোন থেকে সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলা চালিয়েছিলেন। সেই কারণেই ওই দিন নিরাপত্তারক্ষীদের মোবাইল নিয়ে নেওয়া হয় ও তাঁদের ঘেরাটোপে রাখা হয়। ঘটনার দিন লাউডন স্ট্রিটের ওই বহুতলে ইডির সদস্যেরা তাই করেছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

লালবাজার জানিয়েছে, ওই মামলার শুনানি সোমবার। শুনানিতে কী হয় তার উপরেও তদন্ত অনেকটা নির্ভর করছে। তবে পুলিশ তদন্তের প্রাথমিক কাজ এগিয়ে রাখছে। সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার ২০২০ সালের দিল্লির একটি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। ওই তল্লাশি দ্রুত রাজনৈতিক যুদ্ধের রূপ নেয়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান প্রতীক জৈনের আবাসন এবং অফিসে। পুলিশ অভিযোগ করে ইডি তাদের ঢুকতে বাধা দিয়েছে। ডিসি দক্ষিণকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। ইডির গোয়েন্দা ও তাঁদের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যেরা নিজেদের পরিচয় জানাননি বলে অভিযোগ উঠে। যার ভিত্তিতে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ইডি আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করে শেক্সপিয়র সরণি থানায়। তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের তথ্য চুরি, হুমকি, অনধিকার প্রবেশ-সহ একাধিক ধারায় মামলাও দায়ের করেন ওই থানায়। মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা পুলিশের কমিশনার-সহ কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

IPAC Enforement Directorate Supreme Court of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy