পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তার জন্য রাজ্য সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তারা সন্তুষ্ট বলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে জানাল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই মামলার শুনানি মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামিকাল, বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা হবে।
এ দিন মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে কমিশনের আইনজীবী শক্তিনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ১৪ মে ভোটগ্রহণের দিনকে ‘প্রস্তাবিত বা সম্ভাব্য’ বলেছেন। কোন দিন ভোট হবে বিচারপতি তালুকদার তা নির্ধারণ করতে বলেছেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চকে। ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনের আইনজীবীর কাছে জানতে চায়, নিরাপত্তার কী ব্যবস্থা হয়েছে? শক্তিনাথবাবু জানান, রাজ্য যে যত পুলিশ দিচ্ছে, তাতে কমিশন সন্তুষ্ট।
প্রধান বিচারপতি শক্তিনাথবাবুর কাছে জানতে চান, কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছিল কি না। তিনি জানান, তার প্রয়োজন হয়নি। তখন প্রধান বিচারপতি অন্য বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে বলেন, কমিশন সন্তুষ্ট হলে কোর্টের আর কী করার রয়েছে।
বিরোধী দলগুলির আইনজীবীরা ডিভিশন বেঞ্চে জানান, বনরক্ষী, জেলরক্ষী, সিভিক ভলান্টিয়ারদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিজ্ঞতা নেই। কাজেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁদের আপত্তি রয়েছে। বিজেপির আইনজীবী লক্ষ্মী গুপ্তর অভিযোগ, প্রতি ভোটে স্বাভাবিক, স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথের উল্লেখ থাকে। এ বারে তা জানায়নি কমিশন। সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও বলেন, রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন তা নজরে এসেছে মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে ঘটা হিংসাত্মক ঘটনায়। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, কমিশন ও রাজ্যের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয়।