শত বিতর্ক সত্ত্বেও ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির ঘিরে কার্যত রাজনৈতিক প্রচার অব্যাহত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকঅভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিষেকের মস্তিষ্কপ্রসূত এই বেসরকারি উদ্যোগের মূল আয়োজক হিসাবে নিজেকে তুলে ধরে বিধানসভা ভোটের আগে কে তাঁর নেকনজরে পড়বেন, তা নিয়ে লড়াই শুরু হয়েছে তৃণমূলের দুই চিকিৎসক-নেতা শান্তনু সেন ও নির্মল মাজির।
প্রথম দফায় অভিষেকের নিজের এলাকা ডায়মন্ড হারবারে শান্তনু কিছুটা এগিয়ে গেলেও পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামেসেবাশ্রয়ের আয়োজনে শান্তনুকে মাঠের বাইরে পাঠাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন নির্মল। অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পেয়েও তিনি পৌঁছে গিয়েছেন নন্দীগ্রামে। ক্ষুব্ধ শান্তনু-শিবিরের অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবারের সব আয়োজন শান্তনু করেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে ফোন করে শিবির নিয়ে কটূক্তি করেন নির্মল।নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসককে শিবিরে আসতে নিষেধও করেন। সেই নির্মলই ভোটের আগে অভিষেকের কাছাকাছি যেতে বিনা নিমন্ত্রণে নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয়ে কাজ দেখাচ্ছেন।
নন্দীগ্রামে বৃহস্পতিবার সেবাশ্রয় শুরুর দিনে যদিও নির্মলের দাবি, ‘‘সেবাশ্রয় নিয়ে আমি কখনও বিকৃত মন্তব্য করিনি। ও সব সংবাদমাধ্যমের প্রচার। আমি সপ্তাহে তিন দিন অভিষেকের সঙ্গে আর তিন দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকি। ডায়মন্ড হারবারের সময় থেকেই সেবাশ্রয়ে সমস্ত চিকিৎসকদের পাঠানোর কাজ আমিই করেছি।’’ যদিও ডায়মন্ড হারবারে কোনও দিনই প্রকাশ্যে কেউ নির্মল মাজিকে দেখতে পাননি বলে খবর।
‘সেবাশ্রয়’-এ খাতায় কলমে দু’জন ‘চিফ মেডিক্যাল কো-অর্ডিনেটর’ রয়েছেন। তাঁদের এক জন কলকাতার একটি বেসরকারিহাসপাতালের চিকিৎসক, অন্য জন বারাসত মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার। তাঁদের কথায়, ‘‘গত বছর নিশ্চিত ভাবে শান্তনু সেন শিবিরে চিকিৎসক আনার ব্যাপারে প্রধান দায়িত্ব সামলেছেন। এবছরও তিনি আছেন। কিন্তু নির্মল কখনও ছিলেন না। এ বার তাঁকে ডাকা না হলেও চলে এসেছেন।’’ এঁদের মধ্যে এক জন চিফ মেডিক্যাল কো-অর্ডিনেটরের মন্তব্য, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে নির্মল কোনও সাহায্য তো করেনইনি, উল্টে শিবির নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন এবং অনেক চিকিৎসককে শিবিরে আসতে বাধা দিয়েছিলেন।’’
নন্দীগ্রামে এ দিন শান্তনুকে দেখা যায়নি। তবে তাঁর বক্তব্য, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ সারা দেশে নজির তৈরি করবে। আমিসেবাশ্রয়ের জন্য কী করেছি, সেটা দলীয় নেতৃত্ব জানেন। তাঁদের নির্দেশের বাইরে কিছু করি না।’’ আর নির্মল সম্পর্কে নাম না করে তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা সেবাশ্রয়-১ এর সময়ে চিকিৎসকদের জনে-জনে ফোন করে যেতে বারণ করতেন, ভোটের আগে নন্দীগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁদের সংবাদমাধ্যমে মুখ দেখাতে দেখে বেশ ভাল লাগছে।’’
সেবাশ্রয়কে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে দুই চিকিৎসক-নেতার লড়াইকে কটাক্ষ করে বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্তমজুমদার বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা ব্যর্থ, তা প্রমাণ করতেই অভিষেকের সেবাশ্রয়। শিবির আয়োজনে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় হচ্ছে।এখানে যে নেতা অভিষেকের নেকনজরে পড়তে পারবেন, তিনি সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ছড়ি ঘোরাতে পারবেন আর কাটমানির ভাগ পাবেন। তাই নিজেদের মধ্যে লড়ছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)