কুড়ি বছর বয়সি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত প্রথম এই গীতিনাট্য ‘বাল্মীকি প্রতিভা’। ১৮৮৬ সালে এই নাটকে প্রথম অভিনয় করেন কবি নিজেও। এর পরে ‘বিসর্জন’ নাটকে রবীন্দ্রনাথের অভিনীত ‘রঘুপতি’ চরিত্রটি সাড়া ফেলেছিল গুণী মহলে। বাংলার সাধারণ রঙ্গালয়ে কবির অবদানের সূচনা সেই তখন থেকেই। রবীন্দ্রনাথ এবং সাধারণ রঙ্গালয়ের সম্পর্কের ধারা নিয়ে অনুষ্ঠান ‘রঙ্গালয়ের রবি’ উপস্থাপিত হতে চলেছে ২ মার্চ, সোমবার। ভাবনায় প্রকৃতি মুখোপাধ্যায়। পাঠে সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলবেন প্রাক্তন অধ্যাপক পবিত্র সরকার।
জানা যায়, ১৮৮৬ থেকে ১৯৪১-এর মধ্যে কবির নাটক এবং গল্প, উপন্যাস, কবিতার নাট্যরূপ মিলিয়ে মোট ২৫টি প্রযোজনা উপস্থাপিত হয়েছিল সাধারণ রঙ্গমঞ্চে। অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রকৃতি বললেন, “সে সময় রঙ্গমঞ্চে কবির গান নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা হয়েছিল। রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তীর ‘সাধারণ রঙ্গালয় ও রবীন্দ্রনাথ’ পড়তে গিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। গল্পগুলো পড়ে মনে হয়, একটা অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করা যেতে পারে। এই বইয়ের সূত্রেই সাধারণ রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যে যোগসূত্র, সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তি— তা নিয়ে পড়াশোনা করি। তখনই গল্পগুলো পড়ে মনে হয়েছিল, চমৎকার অনুষ্ঠান করা যেতে পারে।”
আরও পড়ুন:
আগে নাটকেই মূলত গান শুনতে পাওয়া যেত। সুজয়প্রসাদ যোগ করেন, “আমার মনে হয়েছে, এ ক্ষেত্রে পড়াশোনাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, শংকর, বিমল মিত্রের লেখা বিভিন্ন উপন্যাসের নাট্যরূপ সাধারণ রঙ্গমঞ্চে দেখেছি। ষাট-সত্তরের দশকে সাধারণ রঙ্গমঞ্চের যে রমরমা ছিল, তখন কিন্তু রবীন্দ্রনাথের নাটক সে ভাবে আসেনি।” কবির প্রয়াণের পরে প্রথম ‘বহুরপী’ মঞ্চস্থ করেছিল ‘রক্তকরবী’। রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের এই ওতপ্রোত যোগই উঠে আসবে এই অনুষ্ঠানে।