×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

বাঁচানোর জন্যই সরানো হল আরাবুলকে: সুজন

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১১ মে ২০১৮ ২২:৫৭
অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে ভাঙড়ে বিক্ষোভ। —নিজস্ব চিত্র।

অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে ভাঙড়ে বিক্ষোভ। —নিজস্ব চিত্র।

আরাবুল ইসলাম গ্রেফতার। বাড়ির পিছনের মাঠ থেকেই তৃণমূল নেতা আরাবুলকে গ্রেফতার করল কাশীপুর থানার পুলিশ। তবে তাঁকে কাশীপুর থানায় রাখা হচ্ছে না। নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সোনারপুর থানায়।

আরাবুলের গ্রেফতারির প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। ভাঙড়ের এই ঘটনা আবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।” আরাবুলের গ্রেফতার প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য আরও যোগ করে বললেন, “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু শাকটাকে ঢাকবেন কী ভাবে?”

মধ্যরাতে ভাঙড়ের নতুনহাটে পৌঁছেছেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। হাফিজুল মোল্লার দেহ নিয়ে যে অবস্থান চলছে হাড়োয়া মেন রোডের উপরে, সেই অবস্থানে যোগ দিয়েছেন সুজন।

Advertisement

আরাবুলকে বাঁচানোর জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করে সোনারপুরে সরিয়ে দেওয়া হল বলে সুজনবাবু মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আরাবুল শুধু নয়, আর যারা গুলি চালিয়েছিল, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করার দাবিতেই হাফিজুলের দেহ নিয়ে অবস্থান চলছে। শুধু আরাবুলকে গ্রেফতার করলে চলবে না, বাকিদেরও ধরতে হবে। না হলে বুঝব, ভাঙড়ের মানুষের ঘৃণার হাত থেকে আরাবুলকে বাঁচানোর জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল।’’

সুজনবাবুর অভিযোগ, আরাবুল ইসলামকে গ্রেফতার করা লোকদেখানো ব্যাপার। মুখ্যমন্ত্রী যদি সত্যিই কঠোর পদক্ষেপ করতে চাইতেন, তা হলে শুধু আরাবুলকে নয়, অন্য অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করাতেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা শুনছি মুখ্যমন্ত্রীই চেয়েছেন যে, আরাবুলকে গ্রেফতার করা হোক। যদি ধরে নিই যে, মুখ্যমন্ত্রী চাইলেন বলেই আরাবুল গ্রেফতার হলেন, তা হলে এটাও ধরে নিতে হবে যে, মুখ্যমন্ত্রী চাইলেন না বলেই বাকিরা গ্রেফতার হল না।’’

জমি, জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির মিছিলে শুক্রবার যে সশস্ত্র হামলা হয়েছে, তাতেই অভিযুক্ত আরাবুল। তাঁর ভাই খুদেও গুলিচালনায় অভিযুক্ত। অভিযুক্ত আরও অন্তত ১০ জন। প্রত্যেককে গ্রেফতারের দাবিতে ভাঙড় ২ ব্লকের নতুনহাটে এখন বিক্ষোভ চলছে। গুলিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেই হাফিজুল মোল্লার দেহ রাস্তায় রেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। মশাল হাতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী হাড়োয়া মেন রোড অবরোধ করে রেখেছেন বলে জানা গিয়েছে।

সন্ধ্যা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের সম্পাদক শমীক লাহিড়ি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ছিলেন। রাতেই নতুনহাটে পৌঁছনোর জন্য রওনা দিয়েছেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলের নেতা তথা সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তবে শুধু সিপিএম নয়, গোটা বিরোধী পক্ষই ভাঙড়ের ঘটনার তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে।



সোনারপুর থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে আরাবুল ইসলাম। —নিজস্ব চিত্র।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় তীব্র নিন্দা করেছেন গোটা ঘটনার। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।

‘‘পশ্চিমবঙ্গ নিশ্চিত ভাবে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে। ভাঙড়ে আজ যে ঘটনা ঘটেছে, আমি তাকে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। যিনি যে দলের হয়েই রাজনীতি করুন না কেন, রাজনীতির জন্য তাঁর প্রাণ চলে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগুন নিয়ে খেলতে শুরু করেছিলেন। সে খেলা আর তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। গোটা রাজ্য দুষ্কৃতীদের হাতে চলে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার কোনও অধিকার আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেই।’’ বলেছেন বাবুল সুপ্রিয়।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘হাফিজুল মোল্লার দেহ হাসপাতাল নেয়নি। মৃত অবস্থাতেও যদি কাউকে হাসপাতালে নিয়ে য়াওয়া হয়, তা হলেও দেহ নিয়ে পোস্টমর্টেমে পাঠানো হাসপাতালের কর্তব্য। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতাল ঝামেলায় জড়াতে চায়নি। দেহ ফেরত দিয়ে দিয়েছে। কী রাজনীতি চলছে জানি না। এ কোন রাজত্বে বাস করছি!’’

• ‘‘আমি পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে ছিলাম। অনেক দূরে ছিলাম। কিন্তু আমি ভাঙড়ে যাচ্ছি। রাত ১২টা হোক, ১টা হোক, রাতেই আমি ভাঙড়ে যাব। হাফিজুল মোল্লার মৃতদেহ নিয়ে হাজার হাজার লোক রাস্তায় বসে রয়েছেন।’’



Tags:
Arabul Islam West Bengal Panchayat Elections 2018আরাবুল ইসলামভাঙড়

Advertisement