Advertisement
E-Paper

বন্দুক হাতে দু’জন সামলাবেন অতি স্পর্শকাতর বুথ

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস জানান, ভোটের আগের দিন, রবিবার থেকে পুরুলিয়া লাগোয়া ঝাড়খণ্ড সীমানা সিল করে দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০১৮ ০০:২১
বলরামপুরের বেড়সা স্কুলের বুথ। বুধবার। ছবি: সুজিত মাহাতো ও ফাইল চিত্র

বলরামপুরের বেড়সা স্কুলের বুথ। বুধবার। ছবি: সুজিত মাহাতো ও ফাইল চিত্র

আজ, ভোটে চলেছে পুরুলিয়া। প্রশাসন বলছে নিরাপত্তার কড়া বন্দোবস্ত হয়েছে। মানতে নারাজ বিরোধীরা।

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস জানান, ভোটের আগের দিন, রবিবার থেকে পুরুলিয়া লাগোয়া ঝাড়খণ্ড সীমানা সিল করে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক অলকেশপ্রসাদ রায় জানিয়েছেন, ২৩১৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টি অতিরিক্ত স্পর্শকাতর ও ১৭৯টি অতিস্পর্শকাতর। সেখানে দু’জন করে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী থাকবেন। আর এক জন করে সিভিক ভল্যান্টিয়ার। সাধারণ বুথে এক জন করে সশস্ত্র পুলিশ এবং সিভিক কর্মী।

একটা সময়ে এই জেলার জঙ্গলমহলের অতিস্পর্শকাতর বুথগুলিতে থিকথিক করত নিরাপত্তারক্ষী। লোকসভা বা বিধানসভা ভোটের তুলনায় হলেও, পঞ্চায়েত ভোটে সেখানে প্রচুর নিরাপত্তারক্ষী থাকতেন।

তবে এখনকার পরিস্থিতিটা আলাদা। তৃণমূল সরকারের দাবি, মাওবাদী সমস্যা আর নেই। এ বার ওই ধরনের বুথগুলিতে বন্দুক হাতে থাকছেন দু’জন পুলিশ। জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, ‘‘প্রশাসন এখনও অনেক বুথকে অতি স্পর্শকাতর বলে মেনে নিচ্ছে। কিন্তু এই বন্দোবস্তে সেখানে কী নিরাপত্তা থাকবে সে তো বোঝাই যাচ্ছে! আমাদের কাছে খবর রয়েছে বাঘমুণ্ডিতে ইতিমধ্যেই বহিরাগতরা ঢুকে পড়েছে। পর্যবেক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি।’’ অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। বলেছেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’’

অন্য দিকে, রবিবার সন্ধ্যায় গুলির রঘুনাথপুর ১ ব্লকের শাঁকা গ্রামে বিজেপির পার্টি অফিসের সামনে দু’টি গাড়িতে এক দল দুষ্কৃতী এসে শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় হইচই শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে গ্রামে যায় পুলিশ। বিজেপির জেলার সাধারণ সম্পাদক কমলাকান্ত হাঁসদার অভিযোগ, ‘‘নির্বাচনের আগে এলাকা সন্ত্রস্ত করতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী গুলি ছুড়েছে।’’ যদিও তা মানতে নারাজ রঘুনাথপুরের পুরপ্রধান ভবেশ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা দাবি, ‘‘বিজেপি ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে।’’

বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন, রঘুনাথপুর, সাঁতুড়ি, নিতুড়িয়া, কাশীপুরের মতো কিছু এলাকায় ভোটের আগে বহিরাগতরা ঢুকছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জানতে পেরেছি, ভোটের দিন সন্ত্রাস চালানোর উদ্দেশ্য নিয়ে আসানসোল আর বাঁকুড়ার পাত্রসায়র, ইঁদুপর থেকে লোক আনছে শাসকদল।’’ তবে জেলাশাসক জানান, এই মর্মে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালি বলেন, ‘‘আমাদের সরকারের আমলে যে উন্নয়নের কাজ হয়েছে তার পরে মানুষ এমনিতেই আমাদের পাশে রয়েছেন। সেটা জেনেই ভোটের আগে হাওয়া গরম করতে বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’’

সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়ের কটাক্ষ, ‘‘যা পরিস্থিতি তাতে নিরাপত্তার বিষয়টি অলীক। মানুষকে নিজের নিরাপত্তা নিজের হাতে নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে যেতে হবে।’’

অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলেরও। দলের জেলা সভাপতি শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘‘সীমানা লাগোয়া বেশ কিছু ব্লকে ঝাড়খণ্ড থেকে বিজেপি লোক নিয়ে এসে গন্ডগোল পাকাতে চাইছে বলে খবর পেয়েছি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।’’ তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিদ্যাসাগরবাবু। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমানা এলাকায় তল্লাশি হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার জন্য জেলায় মোট ১২ হাজার পুলিশ কর্মী থাকছেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বুথে মোতায়েন থাকবেন ৩,০৫০ জন।

জেলাকে ২৮৪টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। তিন-চারটি সেক্টর পিছু একটি করে রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড থাকবে। এক একটি স্কোয়াডে থাকবেন ২৫ জন নিরাপত্তারক্ষী। ওই বাহিনীর কাছে ওয়াকিটকি, কাঁদানে গ্যাস, ঢাল, জ্যাকেট ইত্যাদি থাকবে। এ ছাড়া প্রতিটি থানা এলাকায় একটি করে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) কাজ করবে। কোথাও গোলমাল হলে দ্রুত দলটি পৌঁছে যাবে।

West Bengal Panchayat Elections 2018 Booth Sensitive Violence Miscreants TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy