E-Paper

সাগর থেকে পাহাড় জুড়বে সাত ঘণ্টায়, ‘সঙ্কল্প’ বিজেপির

বিজেপি সূত্রের খবর, পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গেই শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সূত্রে জলপথ, স্থলপথ এবং আকাশপথ, তিনটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৪
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।

‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার। পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিন সেই সরকার গঠন হলেই উন্নয়ন সম্ভব। বিজেপি বারবার সেই দাবি করেই আসছে। তবে এ বার শুধুই মঞ্চে বক্তৃতা নয়, সূত্রের খবর, ‘সঙ্কল্প পত্রে’ও এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে তাদের সরকার গঠন হলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আনার আশ্বাস দিচ্ছে তারা ।

বিজেপি সূত্রের খবর, পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গেই শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সূত্রে জলপথ, স্থলপথ এবং আকাশপথ, তিনটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জলপথ বাণিজ্য বাড়াতে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির প্রতিশ্রুতি থাকছে ‘সঙ্কল্প পত্রে’ থাকছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। সাগরের কাছে গভীর সমুদ্র বন্দরের পরিকল্পনা প্রথমে নিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে এসে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির কথা বলেছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিজেপির দাবি, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলবর্তী রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও এখানে গভীর সমুদ্র বন্দর নেই। তাই জলপথ বাণিজ্য অধিকাংশই অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা ওড়িশায় চলে যায়। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে বাণিজ্য বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করা হবে।

বিজেপির দাবি, এই মুহূর্তে সাগর থেকে পাহাড় সড়ক পরিবহণে ৫১৮ কিলোমিটার পথ যেতে অন্তত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে। এর ফলে বাণিজ্যের ক্ষতি এবং পণ্য পরিবহণে বাড়তি খরচ হয়। দূরত্ব কম হলেও মুম্বই থেকে সুরাত কিংবা হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু যেতে এর চেয়ে কম সময় লাগে। তাই সড়ক পরিবহণে সময় কমানো এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অতি গতিশীল জাতীয় ও রাজ্য সড়ক তৈরি করার কথা বলতে চলেছে বিজেপি। যা সাগর থেকে পাহাড়কে জুড়তে পারবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায়। এ ছাড়াও, বেহালা, ভাঙড়, বালুরঘাট, মালদহ থেকে বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা চালু, কোচবিহার, অন্ডালে যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও থাকছে।

বিজেপির শীর্ষ নেতারা বারবার রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে এবং ভারী শিল্পের কথা বলছেন। কিন্তু এই সব প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ জমির। এত জমি কোথায় পাওয়া যাবে এবং কোন পদ্ধতিতে তা অধিগ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে সব মহলেরই। যদিও বিজেপির ‘সঙ্কল্প পত্র’ কমিটির আহ্বায়ক তথা বিজেপির অর্থনীতিবিদ-বিধায়ক অশোক লাহিড়ীর মতে, ‘‘শুধু জমি-জটকে অজুহাত হিসেবে খাড়া করে উন্নয়নের কাজকে থমকে রাখা যায় না। বিকল্প জমির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার গঠন হলে আমরা সেই আলোচনা শুরু করব।’’ তাঁর দাবি, ‘‘জমি অধিগ্রহণ নীতি স্বচ্ছ হলে, জমি অধিগ্রহণকে দুর্নীতির বাইরে রাখতে পারলে এই কাজ অসম্ভব নয়।’’

আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ব্যাখ্যা, ‘‘তিন ফসলি জমি শেষ বিকল্প। আমাদের লক্ষ্য, অনুর্বর, এক কিংবা দু’ফসলি জমি নেওয়া। কৃষকদের শুধু ক্ষতিপূরণ দেওয়া নয়, সেই সঙ্গে শিল্পের অংশীদারি দেওয়া। তৃণমূল আমলে প্রচুর পরিমাণে জমির চরিত্র বদল হয়েছে। জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে ভেড়ি বানানো হয়েছে। বন্ধ কারখানার জমি আবাসন নির্মাণে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যে পরিমাণ জমি আছে, তাতে শিল্প স্থাপন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কোনও বাধা হবে না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy