বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে নেই রাজ্যের রাজধানী কলকাতা! আগামী মঙ্গলবার বিকালে তাঁর বিমান নামবে অন্ডাল বিমানবন্দরে। মঙ্গল এবং বুধবার দু’দিনই তাঁর নানা কর্মসূচি দুর্গাপুর এবং আসানসোলকেন্দ্রিক। আবার অন্ডাল থেকেই ফিরতি বিমানে উঠবেন তিনি। নিতিনের দু’দিনের সফরে কেন কলকাতা নেই? বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর নিতিন কেন তাঁর প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরের জন্য দুর্গাপুর এবং আসানসোলকে বেছে নিলেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
নিতিন যে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন, তা দিন দুয়েক আগেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে সফরসূচি চূড়ান্ত ছিল না। শনিবার বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিতিনের সফরসূচি জানানো হল। প্রথমে বিজেপি সূত্রের খবর ছিল, কলকাতা ছুঁয়ে বর্ধমান যাবেন তিনি। তবে এখন জানা যাচ্ছে, এ বারের সফরে কলকাতায় কোনও কর্মসূচিই করবেন না নিতিন। দু’দিনই পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর এবং আসানসোলের নিজের কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখছেন। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর এই সফর যে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে মজবুত করার লক্ষ্যেই, তা বলা বাহুল্য। কিন্তু বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করতে প্রথমে কেন পশ্চিম বর্ধমানকে বেছে নিলেন নিতিন?
অনেকের মতে, আসন্ন বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে অবাঙালি ভোটব্যাঙ্ককে ‘পাখির চোখ’ করে এগোতে চাইছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের নানা সূত্রের দাবি, বিধানসভা ভোটের আগে দলের কাছে ‘রাঢ়বঙ্গ জ়োন’ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূমের সাতটি দলীয় সাংগঠনিক জেলা নিয়ে তৈরি এই জ়োন। আর তার কেন্দ্রবিন্দুই দুর্গাপুর। অনেকের মতে, নিতিন তাই তাঁর প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরকে বেঁধেছেন দুর্গাপুর এবং আসানসোলের মধ্যে।
আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ভাল ফল করতে হলে রাঢ়বঙ্গে ঝাঁপাতে হবে। সেই বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে অনেকেই টানছেন ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটকে। সে বছর লোকসভা ভোটে ওই অঞ্চলের আটটি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে ছিল পাঁচটি। লোকসভা নির্বাচনে সে বছরই পশ্চিমবঙ্গে এ যাবত সবচেয়ে ভাল ফল করেছিল বিজেপি। তারা জিতেছিল ১৮টি আসন।
তবে বছর দুই পরে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে রাঢ়বঙ্গে কিছুটা ধাক্কা খায় বিজেপি। ৫৭টি আসনের মধ্যে মাত্র ১৮টি জিততে পেরেছিল পদ্মশিবির। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সাফল্য ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। জেতা আট আসনের মধ্যে জেতে মাত্র দু’টি আসন। রাঢ়বঙ্গ, বিশেষত দুর্গাপুর-আসানসোল অবাঙালিদের সংখ্যা বেশি। সেই অবাঙালি ভোটব্যাঙ্ক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিমুখী করতে মরিয়া পদ্মশিবির।
যদিও বিজেপির একাংশের দাবি, দুর্গাপুরে তাদের ‘ভোটব্যাঙ্কে’ কোনও ভাঙন ধরেনি। ২০১৯ সালে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্র করে জেতেন সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া। ২০২১ সালে দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে জয় পায় বিজেপি। সে বার প্রার্থী ছিলেন লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। যদিও ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র হাতছাড়া হয় তাদের। বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ হেরে যান ওই কেন্দ্রে। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভায় এগিয়ে ছিল বিজেপি।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টে নাগাদ অন্ডালে নামবে নিতিনের বিমান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ দুর্গাপুরের চিত্রালয়া মেলাপ্রাঙ্গণে কমল মেলায় যোগ দেবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। পরে দুর্গাপুরের এক হোটেলে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন। বুধবার দুর্গাপুরের ভিরিঙ্গি কালীমন্দিরে পুজো দেবেন নিতিন। তার পরে চিত্রালয়া মেলাপ্রাঙ্গণেই সাংগঠনিক সভা করার কথা তাঁর। দুপুরে আসানসোলের রানিগঞ্জে আরও একটি সাংগঠনিক সভা করে অন্ডাল থেকেই ফেরার বিমান ধরবেন তিনি।