E-Paper

শহরে জ্ঞানেশ, ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি তৃণমূল, বামের

জ্ঞানেশেরা রাজ্যে আসার পরে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:০৩
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের যাত্রাপথে বামেদের বিক্ষোভ। ভিআইপি রোডে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের যাত্রাপথে বামেদের বিক্ষোভ। ভিআইপি রোডে।

বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে রবিবার রাতে শহরে পৌঁছেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার-সহ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। জ্ঞানেশ শহরে পা রাখতেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিউ টাউনের হোটেল পর্যন্ত তাঁর যাত্রা-পথে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তুলে, কালো পতাকা হাতে পৃথক ভাবে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম। জ্ঞানেশ আসার আগেই কমিশনকে ফের নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

জ্ঞানেশেরা রাজ্যে আসার পরে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীরা। জ্ঞানেশদের আজ, সোমবার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করার কথা। তার আগেই রাতে শহরেরর রাস্তায় জ্ঞানেশদের কনভয়ের উদ্দেশে কালো পতাকা দেখান স্থানীয় তৃণমূল কর্মী, সমর্থকেরা। কেউ কেউ ব্যারিকেড সরাতে গেলে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতির সামাল দেয় বিধাননগর পুলিশ। ঘটনাস্থলে থাকা রাজারহাট-নিউ টাউনের তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এলাকার অসংখ্য মানুষের নাম এসআইআর-এ বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই ভাবে জ্ঞানেশের যাত্রা-পথে, কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন ভিআইপি রোডে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বাম কর্মী, সমর্থকেরাও। স্লোগান ওঠে, ‘নো ভোটার্স, নো ভোট’।

এর আগে ধর্মতলায় এসআইআর-বিরোধী ধর্না-মঞ্চ থেকে ফের সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “মিস্টার ভ্যানিশ কুমার, আপনার প্রধানমন্ত্রীকে বলুন পদত্যাগ করতে। জনগণের ভোটে জিতেছেন। তা হলে কিসের যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি? বিহার, অসম বা অন্য জায়গায় এই সব নেই। যত মাথাব্যথা পশ্চিমবঙ্গে?’’ বিজেপিকে বিঁধে মমতার সংযোজন, ‘‘প্রতি দিন বাবুরা আসছেন। সব হোটেল বুক। টাকার থলি নিয়ে আসছেন বিমানে। যত সাংবিধানিক পদ আছে, সব বিজেপি বেচতে আসছে। এজেন্সি তো আছেই।” এসআইআর প্রক্রিয়াকে ‘পরিকল্পিত খেলা’ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর আরও তোপ, “ভোটের আগেই ভোট করে দিচ্ছেন! তা-ও পারবেন না। দখল করতে বাংলা, বিজেপি হয়েছে হ্যাংলা!”

সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে দলীয় কর্মসূচি থেকে অভিষেক বলেছেন, “৬০ লক্ষ মানুষকে বিবেচনাধীন রেখে তাঁদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে চাইছে। ভয় পাচ্ছে, তাঁরা তৃণমূলকে ভোট দেবেন। কারণ, যাঁরা আগে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা সব বুঝে ফেলেছেন।” সিইসি-র সঙ্গে বৈঠকে আজ তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসাবে থাকার কথা রাজ্যের দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী রাজীব কুমারের। সূত্রের খবর, তাঁদের কাছে দলের ‘বক্তব্য’ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

কমিশন, তৃণমূল-বিজেপিকে এক পঙ্‌ক্তিতে রেখে সরব হয়েছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “জ্ঞানেশ কুমারের কাছে আমরা কাল দাবি-সনদ পেশ করব। কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটা অংশ বানিয়েছে। ওঁরা ভেবেছিলেন, এসআইআর করে ধর্মভিত্তিক বিভাজন তৈরি করা যাবে। ওঁরা ব্যর্থ। এটা তৃণমূল-বিজেপির খেলা। কী করে মমতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক সঙ্গে বললেন, ১ কোটি ২০ লক্ষ লোক বাদ যাবে?’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Go Back Slogan Gyanesh Kumar ECI

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy