E-Paper

মালদহে পাঠানো হল মণিপুরে সংঘর্ষে নিহত জওয়ানের দেহ

মিঠুন মণ্ডলের বাড়ি মালদহ জেলার মোথাবাড়ির উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগজানতলা এলাকায়। ১৭০ নম্বর ব্যাটালিয়নের আলফা কোম্পানির কনস্টেবল মিঠুন উখরুল জেলার মংকোট চেপুতে কর্মরত ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪৫
মোবাইলে স্বামীর ছবি, কান্নায় ভেঙে পড়লেন জওয়ানের স্ত্রী।

মোবাইলে স্বামীর ছবি, কান্নায় ভেঙে পড়লেন জওয়ানের স্ত্রী। —নিজস্ব চিত্র।

মণিপুরের নাগা এলাকা উখরুলে দুটি জঙ্গি গোষ্ঠীর গুলির লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারানো বিএসএফ জওয়ান মিঠুন মণ্ডলের দেহ আজ শ্রদ্ধা জানানোর পরে বিমানে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হল। মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহ বীর টিকেন্দ্রজিৎ বিমানবন্দরে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘‘কনস্টেবল মণ্ডলের সাহস, নিষ্ঠা ও অটল কর্তব্যবোধ দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর অদম্য মনোবলের প্রতীক। তাঁর এই আত্মবলিদান কখনও বিফলে যাবে না এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্তব্য, সম্মান ও দেশপ্রেমের মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত করবে।’’ তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বলেন, মণিপুরের জনগণ তাঁদেরপাশে রয়েছে।

মিঠুন মণ্ডলের বাড়ি মালদহ জেলার মোথাবাড়ির উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগজানতলা এলাকায়। ১৭০ নম্বর ব্যাটালিয়নের আলফা কোম্পানির কনস্টেবল মিঠুন উখরুল জেলার মংকোট চেপুতে কর্মরত ছিলেন।

বিএসএফ শনিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে বলে, মিঠুন রোড ওপেনিং পার্টির অংশ ছিলেন। মংকোট চেপু গ্রামে টাংখুল নাগা জঙ্গি ও কুকি জঙ্গিদের মধ্যে গুলির লড়াই চলাকালীন তাঁর কাঁধে গুলি ঢোকে। ইম্ফলের রিমস্ হাসপাতালে আনলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। অবশ্য বিএসএফের দাবি নস্যাৎ করে উখরুলের কুকি নাগরিক সংগঠন দাবি করল, ওই জওয়ান শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টে ৫০ মিনিটে মংকোট চেপু এলাকায় ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ওয়েটিং শেডের পাশে বারান্দায় বসেছিলেন, তখন একটি গুলি জিআই শিটের দেওয়াল ভেদ করে তাঁর বুকে এসে লাগে। কুকিরা ওই ঘটনায় কোনও ভাবেই জড়িত নয়। তারা ঘটনার এনআইএ তদন্তেরদাবি তুলেছে।

কৃষক পরিবারের বড় ছেলে ৩৪ বছর বয়সি মিঠুনই ছিলেন মূল উপার্জনকারী। ৯ বছর আগে তিনি বিএসএফে যোগ দেন। বছর ছয়েক আগে সুলেখা মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাঁদের দুই সন্তানের বয়স ৫ ও ৩ বছর। ছেলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ভেঙে পড়েছেন ৬১ বছরের মন্টু মণ্ডল। মিঠুনের ভাই বাবার সঙ্গে চাষাবাদ করেন। পরিবারের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ মণিপুর থেকে ফোনে জানানো হয়, “মিঠুনের গুলি লেগেছে, অবস্থা আশঙ্কাজনক।” তার মিনিট ১৫ পরেই জানানো হয় মিঠুন মারা গিয়েছেন। দিশাহারা সুলেখার কান্না থামছে না। পরিবারের আক্ষেপ, দুই শিশু সন্তান তাদের বাবাকে ভাল করে চেনার সুযোগই পেল না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BSF Manipur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy