E-Paper

গান ঢাকছে পাইপ কাটার শব্দ, পাট খেতে তৈরি হচ্ছে ‘বাটখারা’

সূত্রের খবর, যাবতীয় কড়াকড়ির মধ্যেই গত আড়াই মাসে অন্তত ১০০ কেজি বোমার মশলা ঢুকেছে শুধু ডোমকল পুরসভা এলাকায়। কিন্তু সবার নজর এড়িয়ে বোমা কারবার চলছে কী করে?

সুজাউদ্দিন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৭

—প্রতীকী চিত্র।

বাজার ছাড়িয়ে এগোলেই রেডিয়ো সারানোর দোকান। সেখানে তারস্বরে বাজছে গান। তাতেই ঢাকা পড়ছে দোকানের পিছনে গোপন কুঠুরিতে বসে পাইপ কাটার শব্দ। পাইপের ছোট টুকরোর মধ্যে ‘পাউডার’ (বোমার মশলা) ভরে তৈরি হচ্ছে সকেট বোমা।

মুর্শিদাবাদের ডোমকলের শহরাঞ্চলে যেমন এমন দোকানের খোঁজ মিলেছে, তেমনই গ্রামাঞ্চলে পাটের খেতও বোমার কারিগরেরা নিশ্চিন্ত আশ্রয় বলে বেছে নেয়। পাটগাছ প্রায় ছ’সাত হাত উঁচু হয়। খেতে একটু জায়গা পরিষ্কার করে নিলে, দূর থেকে বোঝা যায় না সেখানে কেউ আছে কিনা। সেখানেই বানানো হয় ‘বাটখারা’ (সকেট বোমা), ‘খুচরো পয়সা’ (হাতবোমা বা পেটো)।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল আর পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যেও কার্যত এ ভাবেই বোমা বানানো অব্যাহত ‘বোমকল’ নামে পরিচিত ডোমকলে। রাজ্য পুলিশের এক কর্তার অভিজ্ঞতা, ডোমকলে বোমা তৈরির এমন কারিগরেরা রয়েছে, যারা সামান্য নির্জনতা পেলেই দ্রুত সকেট বোমা বানাতে পারে।

মরা জলঙ্গির পারে বিকল রিভার পাম্পে হাউসের ভাঙা জানালায় বসে বোমা তৈরির কারিগর বাবলু মণ্ডল (নাম পরিবর্তিত) বলছিল, ‘‘ফাঁকা মাঠে, খেতের মাঝখান কিংবা পরিত্যক্ত বাড়িতেও বোমা বানানো হয়। কিন্তু এ বার পাউডারের দাম বেশি।’’ বাবলুই জানাচ্ছে, কেজি প্রতি ‘পাউডারের’ দাম এখন সাড়ে আট হাজার টাকা।

সূত্রের খবর, যাবতীয় কড়াকড়ির মধ্যেই গত আড়াই মাসে অন্তত ১০০ কেজি বোমার মশলা ঢুকেছে শুধু ডোমকল পুরসভা এলাকায়। কিন্তু সবার নজর এড়িয়ে বোমা কারবার চলছে কী করে? কারবারিদের দাবি, কার কাছ থেকে মশলা পাওয়া যাবে, কে দেবে জালকাঠি, পেরেক (স‌্প্লিন্টার), কারা সে মশলা দিয়ে বোমা বানাবে, তার পরে তা কোথায়, কার হাতে তুলে দেবে— সবটাই চক্রের মাধ্যমে হয়। খুব বিশ্বাসভাজন কয়েক জন কেবল সে চক্রে ঢুকতে পারে। এক কারবারির কথায়, ‘‘রাজনৈতিক নেতাদের হাত থাকে। তবে আমাদের কাছে অর্ডার আসে নির্দিষ্ট কিছু লোকের মাধ্যমে। তার বাইরে কেউ কিছু চাইলে বলে দিই, ‘ও সব কোথায় বানানো হয় জানি না’।’’

আর কেউ না জানুক, পুলিশ জানে এই বোমার কারবারি কারা। তবে জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘এই চক্রের অনেকের খোঁজ পেয়ে তাদের ফোনে নজর রাখা হচ্ছিল। তাই ওরা আর ফোন ব্যবহার করছে না। অর্ডার নিচ্ছে মুখে-মুখে।’’ গত বছরের শেষ চার মাসে প্রায় এক হাজার বোমা উদ্ধার হয় ডোমকল থেকে। তবে নতুন বছরে তেমন করে বোমা উদ্ধার হয়নি। পুলিশ কি তা হলে সন্ধান পাচ্ছে না? এসডিপিও (ডোমকল) শুভম বজাজ বলেন, ‘‘আগেও অভিযান চালিয়ে প্রচুর বোমা উদ্ধার করেছি। অভিযান চলবে। বোমার কারবারে জড়িতদের রেয়াত করা হবে না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bombs Domkal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy